এ কেমন নির্মমতা!

একটি টমটম গাড়ী ছিনিয়ে নেয়ার লোভে খুন হন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়  টমটম চালক সাইদুল ইসলাম (১৭)। লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ঘাতক কাজল দেবনাথ শুক্রবার সুনামগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে সে হত্যার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ধারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরে আদালত তাকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল মোঃ মাহমুদ হাসান চৌধুরী জানান,তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হাতিউড়া গ্রামে আমি ও জগন্নাথপুর থানার উপ পরিদর্শক অনিক দে’র নেতৃত্বে গোপাল দেবনাথের ছেলে কাজল দেবনাথকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তার কাছ থেকে টমটম চালকের মুঠোফোন পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে তার বোন জামাই মহেশ্বর দেবনাথের একই উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে খুন হওয়া টমটম চালকের টমটম উদ্ধার করা হয়। পরে তার কথামতো লাশ উদ্ধার হয়।

তিনি আরো বলেন,শেখ বিল্লাল হোসেন একজন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও তিনি সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গারি ব্যবসা করছেন। তার কর্মচারী হিসেবে ভাঙ্গারির মালামাল জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রয় করেন কাজল দেবনাথ।

তিনি আরো বলেন- ঈদের আগের দিন টমটম চালক জগন্নাথপুরের বাউরকাপন গ্রামের সাইদুল ইসলাম এর টমটম গাড়ি রাসেল মিয়া পরিচয়ে ভাড়া নেন কাজল দেব নাথ। সেদিন গাড়ি না চালিয়েই ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় দেন সাইদুল কে। পরদিন ১১ আগস্ট ফোন করে সাইদুল কে ডেকে নিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শেখ বিল্লাল হোসেনের দক্ষিন সুরমার কুতুবপুর এলাকার গোডাউনে নিয়ে যান। সেখানে শেখ বিল্লাল, কাজল দেবনাথ ও দোকানের নৈশ প্রহরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জালালপুর গ্রামের শরিফ মিয়া মিলে টমটম চালক সাইদুরের ঘাড়ে হেমার (কাঠের শক্ত টুকরা) দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ রশিদপুর এলাকার একটি ঝোঁপে ফেলে দেন।

সাইদুলের বড় ভাই রিয়াজুল হক জানান,সাইদুল জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কে প্রতিদিন টমটম গাড়ি চালাতো। বিশ্বনাথের বাগিচাবাজারের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া তার মালামাল জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ভবেরবাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক ঈদের আগে ১১ই (রবিবার) আগস্ট সকালে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বাগিচার বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয়। বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে তিনি ভাইয়ের মুঠোফোনে কল দেন। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে তিনি জগন্নাথপুর থানায় একটি জিডি করেন। এর ১১দিন পর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে তার ভাইয়ের লাশ পাওয়া যায়।

নিহত টমটম চালক সাইদুল জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাউরকাপন এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাজল দেবনাথকে প্রধান আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামী ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার আতুকুড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে শেখ বিলাল হোসেন (৪৫) , একই জেলার বিজয়নগর থানার জালালপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নৈশ প্রহরী শরিফ মিয়া (৩৫) ও প্রধান আসামি কাজল দেবনাথ এর বোন জামাই নাসিরনগর থানার কালিবাড়ি গ্রামের মহেশ্বর দেবনাথ। তাদের মধ্যে বিল্লাল ও শরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের রশিদপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

এদিকে গত বুধবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান,জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি আরো বলেন,আসামির স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি দেড় লাখ টাকা দামের টমটম গাড়িটি আত্মসাৎ করতে তাকে হত্যা করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।