পানির রাজনীতি

দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন আরো অবনতি হচ্ছে। ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে মৃতের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা ৯০ আর ভারতের আসাম, বিহার ও মেঘালয়ে প্রাণ গেছে শতাধিকের। কেবল বিহারেই প্রাণ গেছে ৭৮ জনের। দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় অন্তত ৩০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেভ দা চিলড্রেন। যাদের একটি বড় অংশই ভারতের।

১১ থকে ১৩ই জুলাই, মাত্র তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে নেপাল। শতাধিক প্রাণহানির পাশাপাশি ক্ষতির মুখে দেশটির ২০ লাখ মানুষ। তবে বৃহস্পতিবার থেকে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

ভারতে বন্যায় প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক এলাকা। বিহার, আসামের পর বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মেঘালয়েও। ভারি বৃষ্টি না থামায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে কেরালার ৩ জেলায়। 

এ পর্যন্ত দেশটিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটিরও বেশি মানুষ। তীব্র খাদ্য সংকটে পড়া এসব মানুষ সরকারের প্রতি জরুরি ত্রাণ সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে।

পানি সম্পদ ইস্যুতে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ক কখনোই সহজ নয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অবনতি হয় এই সম্পর্কের। নিজেদের ভোগান্তি ও প্রাণহানীর জন্য একে ওপরকে দায়ী করে আসছে দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা ।

ভারত এবং নেপালের মধ্যে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। নেপাল থেকে ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত হয় প্রায় ৬০০০ নদী ও জলধারা।

শুষ্ক মৌসুমে ভারতের গঙ্গা নদীতে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি আসে নেপাল থেকে প্রবাহিত এসব নদী এবং জলধারা থেকে। যখন এসব নদীতে পানি বেড়ে যায়, তখন নেপাল এবং ভারতে বন্যা দেখা দেয়।

বন্যার পানি রুখতে সামীন্তে নদীন ভেতর বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। এনিয়ে গত কয়েকবছর যাবত নেপালের সীমান্তে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালে সীমান্তে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়।

নেপালের অভিযোগ, ভারত নির্মিত ১০ টি বাঁধের কারণে প্রতিবছর নেপালের কয়েক হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হচ্ছে। তবে ভারতের দাবি, সীমান্তে বাঁধ নয় বরং নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা। তবে, বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, ভারতের নির্মিত এসব স্থাপনা পানি আটকে দেয়ার বাঁধ ছাড়া আর কিছুই নয়।

নেপাল থেকে ভারতের বিহারে পানি প্রবেশ করে মূলত কোসি ও গংডাকি নদী থেকে। মজার বিষয় হলো এই দুই নদীতে যে ব্যারেজ আছে ১৯৫৪ এবং ১৯৫৯ সালের চুক্তি অনুযায়ি তা নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। নেপালের অভিযোগ, বন্যা, সেচ সুবিধা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মিত বাঁধটি নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করে দিল্লি।

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে গাউর নামক এলাকা বেশ কয়েকদিন যাবত বন্যার কবলে রয়েছে। এমন পরিস্থিতি প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ বাধতে পারে এমন আশঙ্কা নেপালের। তবে এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয় নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

দুই দেশের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর যাবত আলোচনা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতে ইতিবাচক কোন ফল আসেনি।