ডেভিল হাসবেন্ড | তেইশতম পর্ব

iamge

অরুকে নিয়ে ঘরে চলে আসলাম। বাপরে বাপ হুট করেই বৃষ্টিটা কি দৌড়ানিটাই না খাওয়ালো। রাত বলে মেঘের ঘনঘটা চোখে পড়েনি। অরুটা ছটফট করে নিজের ঘরে চলে গেলো। বলল পরে আসবে আবার।

আমি এখন কি করবো বসে বসে ভাবছি। খট করে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। তাকিয়ে দেখি আরিয়ান। আচ্ছা এটা আরিয়ান তো ? সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞেস করলো অরু কোথায় ?

অরুর কথা জিজ্ঞেস করাতে ভাবলাম এ হয়তো আবির। তাই রিল্যাক্স ভাবেই উত্তর দিলাম, অরু তো নিজের ঘরেই চলে গিয়েছে ভাইয়া। কেন আপনার কি কোন দরকার ? তবে একটু অপেক্ষা করতে পারেন, সে আসবে একটু পর।

এই কথা বলার পর দেখি উনি গিয়ে ঘরের দরজা লক করে দিলেন। মনের ভেতরটা কেমন খট করে দরজা খোলার মতো খট করে উঠলো। এমা এটা কি আরিয়ান ! আবির তো এভাবে দরজা আটকাবে না। বলেই উঠলাম, “কি ব্যাপার দরজা আটকালেন কেন ? আপনি কে বলেন তো ?”

উনি প্যান্টের দু’পকেটে হাত ঢুকিয়ে হেলতে দুলতে এগিয়ে আসছে। এবার আমি শিওর এটা আরিয়ান। এর এরকমভাবে চলা আমি আগেও দেখেছি। গলা যেন শুকিয়ে আসছে। কি করবে কে জানে।

ভয়ে আমি বেড সাইডের টেবিল থেকে তাড়াহুড়ো করে এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে খেয়ে নিলাম। তবুও মনে হচ্ছে এক সমুদ্র পানি খেয়ে নিতে পারবো। কিন্তু কথা হচ্ছে গিয়ে আমার পেটের ভেতর এক বালতি সমান ও জায়গা নেই ! ধ্যাৎ বালতি বড় হয়ে গেলো। আমার তো আরো ছোট জায়গা। টু জিবি মেমরি তে থার্টি টু জিবি স্পেস ভাবলে হবে নাকি। কি সব যে ভাবি আমি।

পানি খাওয়ার পর শান্ত ভাবে বিছানায় বসি। জানি নিশ্চিত ঝাড়ি খাবো এখন। না হলে দরজা লাগাতো না। আরিয়ান সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলছে,

– বসেছিস কেন ? (রাগি আওয়াজ)

– আমার বিছানায় আমি বসেছি। কারো অনুমতি নিয়ে বসতে হবে নাকি ?

– এত কথা বলিস কেন তুই ?

– যাব্বাবাহ, এত কথা কই বললাম। প্রশ্ন করেছেন উত্তর দিয়েছি, শেষ। আর কি ?

– উঠে দাঁড়া।

– পারবো না। আমি এখন শুবো, ক্লান্ত লাগছে। আপনি যান তো।

– কথা শুনবি না ?

– বয়েই গেছে আমার কথা শুনতে। আপনি যান তো। ঘুম পাচ্ছে আমার।

– এইতো ধেইধেই করে নাচলি। তখন কি ক্লান্ত লাগেনি, ঘুম পায়নি ?

– উফ… এত বিরক্ত করেন কেন আপনি। আপনি এখন যান। অরু এসে দরজা বন্ধ পেলে কি জানি কি ভাববে।

– কি আর ভাববে, ভাববে উড বি ওয়াইফের ঘরে এসেছি। এমনিতেই চলে যাবে।

– এই ওয়েট ওয়েট মনে পড়েছে, আপনি উড বি কেন বলছেন অরুকে ?

– তো কি হয়েছে ?

– কি হয়েছে মানে। আপনার যা ইচ্ছা তাই বলবেন নাকি। আমাকে কি আপনার খেলার পুতুল মনে হয় যে ইচ্ছামতো খেলবেন ? (রেগে)

– তুই কি জানিস তুই পুতুলের থেকেও বেশি ?

– কিহ ? কি বলছেন, মাথা ঠিক আছে আপনার ? আর একটা কথা ও বলবেন না। এখনি বের হোন আমার ঘর থেকে।

এই বলে আমি শুয়ে পড়লাম ওর বিপরীত দিকে ফিরে। মেজাজ টা খারাপ হচ্ছে। অরু বলে না লেজ কাটা ব্ল্যাক বেঙ্গল, ঠিকই বলে। বাদর লোক একটা, বাঁদরামি করতে আসছে এখানে।

হঠাৎ আরিয়ানের এক কাজে শকড হয়ে যাই। শুয়ে ছিলাম ডান পাশ ফিরে। আরিয়ান একটা টান দিয়ে চিৎ করে ফেলে আমার উপরে উবু হয়। নাহ আমার গায়ে বাজে নি। যথেষ্ট দূরত্ব রেখেছে। কিন্তু ওর এইরকম কাজে বেশ অবাক হয়ে যাই আমি ! আমিতো ভাবছিলাম আজকে বুঝি এত দিনের সেভ রাখা এই সম্মানটা গেলো। কিন্তু নাহ সবই ঠিকঠাক। তবে ওর এই হুট করে আমাকে এভাবে আটকে ফেলা খুব অস্বস্তিতে ফেলেছে আমাকে।

আমি অবাক হয়ে শুধু ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বলার মধ্যে শুধু এতটুকুই বলল, “জুয়েলের সাথে যদি আরেকবার দেখছি তো আজ যেটা করিনি, পরে কিন্তু আর এই দূরত্বটাও বাঁকি থাকবে না। ”

এই বলে আরিয়ান উঠে চলে গেলো। কিছুক্ষণ এভাবেই তাকিয়ে থাকলাম। আশেপাশে পানি খুজছিলাম, কিন্তু পাবো কই ? একটু আগেই তো ভয়ে খেয়ে নিয়েছি। তবুও সাহস করে তর্ক করেছি। এখন তো প্রথম ভয় থেকে দ্বিতীয় ভয়টাই বেশি পেলাম।

শোয়া থেকে উঠে বসে হাঁপাচ্ছি। পানি খেতে যে বাহিরে যাবো সেই এনার্জিটুকুও যেন পায়ে নেই। উঠে দাঁড়ালেই লাগছে পড়ে যাবো। হঠাৎ দেখি অরু হাতে করে পানির জগ নিয়ে এসেছে। মনে হচ্ছে মরুভূমির বুকে যেন এবার বৃষ্টির শীতল পানি পাবো।

অরু গ্লাসে পানি ভরে এগিয়ে দিল আমার দিকে। আমি কোনোরকমে গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক নিঃশ্বাসে সব শেষ করে দিলাম। পানি খেয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

হুট করেই মনে হল, কি ব্যাপার অরু আমার জন্য পানি নিয়ে আসলো। আমিতো ওকে বলিনি কিছু। অরুকে তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞেস করলাম,

– অরু তুমি এখনি আমার ঘরে কেন, তোমার না আরো দেরিতে আসার কথা ?

– দেরিতেই তো আসতাম কিন্তু…

– কিন্তু বলে সুর টানছ কেন ? কিন্তু কি ?

– আরিয়ান ভাইয়া বলল, তুমি নাকি অসুস্থ ফিল করছ। ঘরে পানি নেই তাই আমাকে পানি নিয়ে আসতে বলল।

– উফফ আল্লাহ এই ছেলেকে তো আমি…

– আপু আপু…

– কি ?

– ও আপু আপু…

– উফ কি ?

– ও আপু শোনো না।

– এবার না বললে কিন্তু ওই রসগোল্লার মতো গাল দুটোই চটাং করে থাপ্পড় বসিয়ে দেবো।

– ছিঃ আমার তুলোর মতো গাল টাকে তুমি রসগোল্লার মতো বলছ। এটা কিন্তু ঠিক না। আমি কি সুন্দর করে ডাকছিলাম তোমাকে।

– পাকামো না করে কি বলবে কি বলতে চাও।

– ও আপু শোনো না আমি একটা ইম্পোর্ট্যান্ট কথা বলতে চাচ্ছি।

– উফফ বাবা এক পাগলের জ্বালাতনে এমনিতেই জ্বলছি, তার উপর এই আরেকটা জুটেছে।

– ভুল ভুল ভুল, আমি পাগল নই। পাগল পুরুষ লিঙ্গ। আমি হচ্ছি গিয়ে…

– তুমি হচ্ছ গিয়ে আস্ত একটা বাঁদরনী।

– ধুর বাবা ভাল্লাগেনা। একটা ইম্পোর্ট্যান্ট কথা বলছিলাম আমি।

– এবার যদি না বলোনা, তবে তোমার মাথায় চাটি মেরে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেবো কিন্তু।

– ওকে ওকে। ও আপু আপু…

– বলো।

– আমার না ক্ষুধা লেগেছে, হেব্বি। সিরিয়াসলি।

– ওওও আল্লাহ গো আমাকে এক চামচ পানিতে ডুবিয়ে মারো, এখনি মারো। এই মেয়ে বলে কি ! ক্ষুধা লেগেছে এইটা বলার জন্য এতগুলো কথা খরচ করলো। এবার নিশ্চিত আমি মেন্টাল হয়ে যাবো।

– আরে নাহ কি বল এত ফাস্ট নাকি। আগে তোমার বিয়ের দাওয়াত খাবো তারপর হিহিহি….

– তবে রে খাওয়াচ্ছি বিয়ে…

অরুকে দৌড়ানি দিলে বাহিরে ছুটে আসে। আমিও ছুটি ওর পিছনে। প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো দুজন ছুটাছুটি করে যখন হাঁপিয়ে গেলাম তখন দুজন দুজনকে জড়িয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিলাম। সোহেলী আন্টি কোথা থেকে এসে বলছে,

– বাহ দুজনে ভালো ই খাতির জমিয়ে ফেলেছ দেখছি।

বেশ ভালো কথা। এখন আসো রাতের খাবার খেয়ে নাও। বুঝোই তো অনেক মানুষ, শিফট করে খেতে গেলে অনেক রাত হয়ে যাবে। আসো আসো ফাস্ট।

আমরা দুজনই “ওকে” বলে আন্টিকে চলে যেতে বললাম। অরুর কিছু একটা দরকার এ নিজের ঘরে যাবে বলে চলে যায় সিড়ি বেয়ে আর আমি চলে আসি খাবার টেবিলে। বাহ আরিয়ান আর আবির দুজনেই দেখি পাশাপাশি বসেছে। কেমন একটা খটকা লাগছে এরা দুজন একসাথেই কেন থাকে সবসময় ?

অরু ডিংডিং করতে করতে সিড়ি বেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নামছে। বলার সুযোগ টা হলো না তার আগেই চিৎপটাং হয়ে গেলো অরু। উফ এই মেয়েটা কি যে করে না।

আবির উঠে এগিয়ে গেলো অরুর দিকে। হ্যাঁ এটা আবিরই। কারন তখন আরিয়ানের যে ড্রেস ছিল আমার ঘরে আসছিল যখন, সেই ড্রেস ই আছে।

আবির অরুকে ধরে দাড় করালো। পায়ে হালকা মোচড় খেয়েছে তাই পা ফেলতে একটু কষ্ট হচ্ছে। আবির আচ্ছামতো ঝাড়ি দিলো অরুকে। বেচারি পিচ্চি একটা মেয়ে এমন চঞ্চল থাকা টা স্বাভাবিক। কিন্তু তিড়িংবিড়িং করে বেশি তাই এমন হলো।

আমরা সবাই তো তাকিয়ে আবিরের শাসন শুনছি। অরুতো প্রায় কাঁদোকাঁদো অবস্থা। মেয়েটার এমনিতেই ক্ষুধা পেয়েছে, তার উপর পায়ের অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে।

হুট করেই আবির অরুকে পাঁজা কোলে নিয়ে নেয়। আমরা তো হা হয়ে দেখছি। কার মুখে কয়টা মশা ঢুকেছে কে জানে। অরু তো চোখ ইয়া বড়বড় করে ফেলেছে। আরিয়ান এর দিকে তাকিয়ে দেখি মুচকি হাসছে। উমম ব্যাপারটা কি হাসছে কেন ?

আবির অরুকে এনে আমার পাশের চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

চলবে

আরো পড়ুন: এই শীতে নিম তেল