মিথ্যে ফাঁদ | শেষ পর্ব

আমার ছোট বোন শান্তা নাকি আমার বিবাহিত এক বন্ধু রাহাতকে রাতদিন ফোনে জ্বালাতন করে।। আর তাই বন্ধু বিরক্ত হয়ে আমাকে নালিশ জানালো।। আমি এই কথা শোনা মাত্রই একদম হতবাক হয়ে গেলাম, সাতপাঁচ ভেবে আমার এক বান্ধবী সিজার সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করলাম।। সিজা একজন সাইকোলজিস্ট, সে রাহাতের সাথে শান্তার এমন করার পিছনে চমৎকার একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করালো।। আমি বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে সিজার কথাই মেনে নিলাম।। আমি টাংগাইল ছুটে যাচ্ছি বোনের সাথে দেখা করে এই ব্যাপারে কথা বলতে, পথিমধ্যে রাহাতের বউকে বাসে অন্য এক লোকের সাথে রহস্যজনকভাবে দেখলাম।। কিন্তু কোন কথা বা সৌজন্যতা আমাদের মাঝে হয় নি, বরং রাহাতের বউ মনে হলো মুখ লুকালো আমাকে দেখে।। শান্তা শিলা মূলত আমার আপন দুই জমজ বোন, ওরা টাংগাইল খালার বাসায় থাকে, রাতে ওদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে যার যার ঘরে ঘুমুতে গেলাম।। মধ্যরাতে আমার ঘুম ভাঙলো পানি খেতে গিয়ে শুনি, শান্তা রাহাতের সাথে কথা বলছে।। সিজার সাথে পরামর্শ করার পর সে আমাকে বললো শান্তার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে, হয়তো ঐ রুমে কেউ ছিলো না।। এদিকে আমার প্রাক্তন নিতুর সাথে কিভাবে কিভাবে যেনো আমার সম্পর্ক ভেঙে গেছে, আমি সিজার কাছে এই ব্যাপারে সাহায্য চাইলে সে এড়িয়ে যায়।। একটা অবাক করা জিনিস খেয়াল করলাম, সিজার সাথে নিতুর প্রায়শই ফোনে কথা হয়, যেটা আমার জানা ছিলো না, সিজা বা নিতু কেউ আমাকে এটা জানায় নি।।

এই ছিলো আগের দুই পর্বের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, তবে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি আগের দুই পর্ব পড়ে নিতে পারেন।। আমি নিচে লিঙ্ক যুক্ত করে দিবো।।


সিজা আমাকে কিছু বলতে গিয়ে, থেমে আবার বললো- তুই বস, আমি একটু ওয়াশ রুম থেকে আসি।।

আমি বসে রইলাম, সিজার ফোন আর ব্যাগ টেবিলের উপর রাখা, আমি এমনি আলগোছে সিজার ফোনটা হাতে নিলাম, দেখলাম স্বাভাবিক ভাবেই লক করা।। আবার ফোন রাখতে যাবো এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো, আমি স্ক্রিনে তাকাতেই চমকে গেলাম- নিতুর নাম্বার থেকে কল।।

এটা কিভাবে সম্ভব, নিতু কেনো সিজাকে কল দিবে!! আর নিতু সিজাকে কল দিলে আমি কেনো জানবো না, সিজা তো অন্তত বলবে।। আমি চট করে ফোনটা রিসিভ করে, কানে তুলে নিলাম।।


ওপাশ থেকে নিতু বললো- হ্যালো সিজাপু, শুনো না আমি না কিছুতেই শোভনের চিন্তা মাথা থেকে নামাতে পারছি না, তোমার দেয়া সব রুলস ফলো করেও পারছি না।। কি করবো বলো তো, প্লিজ বলো??

আমি একদম স্তব্ধ হয়ে গেলাম, মুখের জবান যেনো কেউ কেড়ে নিয়েছে।। সিজা কি তবে আমাদের নিয়ে কোন গেম খেলছে, আমার মতে সিজার সাথে নিতুর কথা হবার কোন সম্ভবনাই নাই, কিন্তু নিতুর কথা শুনে মনে হচ্ছে সিজার সাথে তার প্রতিনিয়ত কথা হয়।।

সিজাকে দূর থেকে এদিকে আসতে দেখলাম, আমি ফোনটা দ্রুত কেটে দিয়ে আবার টেবিলে আগের মত রেখে দিলাম।।

আমার মধ্যে একটা উত্তেজনা ঢুকে গেছে, যে সিজার কাছে আমি পরামর্শের জন্যে আসি, সেই সিজাকে নিয়েই সন্দেহ ঢুকে গেছে মনের মধ্যে, স্থির থাকা দায়।। আমি ছটফটানি সামলে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই টেবিলে বসে আছি, সিজাকে আপাতত এই নিয়ে কিছু বলবো না এটাই পরিকল্পনা।।

সিজা এসে চেয়ারে স্বাভাবিকভাবে বসলো, আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো- কি রে, তোর চেহারা এমন লাগছে কেন??

এই এক সমস্যা, সিজা চেহারা দেখে বুঝে ফেলে, আমি যথাসম্ভব ব্যাপারটা এড়িয়ে গিয়ে বললাম- আচ্ছা শোন তো, শান্তার যে অসুখের কথা তুই ধারণা করছিস এর চিকিৎসা কি, মানে তুই ঠিক কি ভাবে চিকিৎসা করাতে চাস্‌??

সিজা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো- দেখ এই সমস্যার ওভাবে চিকিৎসা হয় না, এসব রোগীদের উপর মূলত এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়।। অনেক সময় এদের প্রচুর সময় দিলে সমস্যা দূর হয়ে যায়, জায়গা পরিবর্তন করলেও এইসব সমস্যা দূর হয়ে যায়।। আরও কিছু ব্যাপার আছে, তুই আগে ওদের নিয়ে আয় পরে দেখা যাবে আমি কি করি না করি।।

আমি আসলে এখন সিজাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে ভয় পাচ্ছি।। মনের মধ্যে একটা জড়তা ঢুকে গেছে সিজাকে নিয়ে, কিন্তু হয়তো প্রকাশ করতে পারছি না, খানিক ভেবে বললাম- আচ্ছা আমার ব্যাপারে পরামর্শ দে তো একটা, আমার এখন কি করা উচিত, নিতুকে ভুলে কি বিয়ে করে ফেলবো??

সিজা আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো, তারপর বললো- তুই নিজেই তো সুস্থ্য না, আগে তুই ঠিক হ, পরে নিতুকে নিয়ে চিন্তা করিস।। আর ভাগ এখন, আমার অফিসে কাজ আছে।। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।।

আমি অগত্যা উঠে গেলাম, মনে মনে ভাবতাম নিতুর ব্যাপার আসলেই তুমি এমন শুরু করো, এই রহস্যের সমাধান আমাকে করতেই হবে।।


ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | প্রথম পর্ব


বাসায় বসে এবার সিদ্ধান্ত নিলাম, নিতুর সাথে যেভাবেই হোক দেখা করতে হবে।। নিতুকে কল দিয়ে লাভ নাই, যেহেতু সব নাম্বার ব্লক করা।। একটা পুরাতন সিম খুঁজে বেড়াচ্ছি, সিমটার নাম্বার সম্ভবত নিতু জানে না, ভাগ্যগুণে পেয়েও গেলাম, তোশকের নিচে কাগজে মুড়ানো।। বিকাশ থেকে সিমে টাকা লোড করে নিতুকে কল দিলাম, প্রথমবারে রিসিভ হলো না, দ্বিতীয়বার নিতু কল রিসিভ করলো।।

হ্যালো, কে বলছেন??

-নিতু আমি, আগেই ফোন রাখবা না, খুব দরকারী কথা আছে, শান্তা শিলার ব্যাপারে।।

আপনার বোনদের ব্যাপারে আমার সাথে কিসের কথা, বলেন শুনি??

-তুমি কি জানো শান্তা একটা মানসিক সমস্যায় আছে??

 আমি কিভাবে জানবো বলেন, আমি তো আপনাদের ব্যাপারে আগেও কিছু জানতাম না, যা করতেন নিজের ইচ্ছামত করতেন।। আর শান্তার কেনো, মানসিক সমস্যা তো মনে হয় আপনার আছে।।

আমি বিরক্ত হয়ে বললাম- ওকে আমি মানসিক রোগী, এবার শুনো আমাকে যাস্ট একটা দিন সময় দিবা, তোমার সাথে মিট করতাম, যাস্ট একটা দিন, আধাঘন্টা সময় দিলেই হবে।।

আপনার কি মাথা ঠিক আছে, আপনি এসব ভাবেন কিভাবে।। আমি যে আপনার সাথে কথা বলতেছি, এটাই তো আপনার সৌভাগ্য।।

-মানে তুমি মিট করবা না, এই তো।। ঠিক আছে সমস্যা নাই, আমিই এর একটা সমাধান বের করবো, তবে তোমাকে পস্তাইতে হবে, আমি এমন কিছু জানি যা হয়তো তুমি জানো না।।

মানে কি, আপনি আমাকে হুমকি দেন নাকি??

-হুমকি না, কি দেই দেখাবো নে, ভালো থাকেন, আপনার সাথে আমার কথা বলার রুচি নাই আর।।

বাহ্‌, বেহায়ার মত নিজেই কল দেন আবার নিজেই এইসব কথা বলেন, রাখেন, ফোন রাখেন ভাই।।

আমি রাগে ফোন কেটে দিলাম, নিজেকে আবার অসহায় লাগছে, কে জানে এই সিজার উদ্দেশ্য কি।। আমার ধারণা সম্পর্ক ভেঙে যাবার পরেও নিতুর সাথে আমার ক’দিন ভালো সম্পর্ক ছিলো, কিন্তু আস্তে আস্তে কারণ ছাড়াই খারাপ হতে থাকলো, আর এর পিছনে হয়তো সিজার হাত আছে।। কে জানে আমাদের সম্পর্ক ভেঙে যাবার পিছনেও সিজার হাত আছে কিনা, এখন তো মনে হচ্ছে সিজা আমাকেও পাগল বানিয়ে দিবে।।


ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | দ্বিতীয় পর্ব


রাহাত হঠাৎ ঢাকা এসেছে, ওর কি এক অফিসের কাজে।। আমার সাথে দেখা করতে চাইলো, আমি আমার অফিসের কাছে আসতে বললাম।। কেনো যেনো মনে হচ্ছে রাহাত আমাকে কিছু বলতে চায়, তাই আমিও আগ্রহ নিয়ে সময় দিলাম।।

রাহাতকে নিয়ে অফিসের কাছেই একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম।। কিছুক্ষণ ভালো মন্দ আলাপ করার পর রাহাত আচমকা বললো- তুই কি সেদিন সত্যিই বিন্তিকে দেখেছিলি বাসে??

আমি একটু বিষম খেয়ে গেলাম, রাহাতের হুট করে করা এমন প্রশ্নে।। আমি স্বাভাবিক গলায় জবাব দিলাম- আসলে এমন কাউকেই দেখলাম মনে হইছে বাসে, আমার সামনের দিকের সিটে বসছিলো, আর নেমে গেছে করটিয়া।।

রাহাত আমার কাছে একটু চেপে বসলো, তারপর বললো- দোস্ত, পাশে কে ছিলো, মানে কেমন দেখতে লোক ছিলো বলতে পারবি, মনে আছে তোর??

আমি রাহাতের কৌতুহলী চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম- পাশে ছিলো ধর আমাদের বয়সেরই ছেলে হবে, চেহারা আছে এভারেজ টাইপ আর কি।। কেন রে, বিন্তির কোন সমস্যা, আমাকে কি বলা যায়??

রাহাত নির্লিপ্ত গলায় বলে গেলো- দোস্ত, আমি বিন্তিকে সন্দেহ করি না, তবে সমস্যা হলো ইদানীং কিছু একটা ঝামেলা হচ্ছে, আসলে দোস্ত বিন্তি ঢাকা আসছিলো এটা সত্যি, কিন্তু কেনো আসছিলো আমাকে জানায় নাই।। ইভেন আমাকে যাবার আগে জানায় নাই, ঢাকা থেকে এসে জানাইছে, মানে হচ্ছে তুই যেদিন জিজ্ঞেস করলি তারপর আমি জিজ্ঞেস করছিলাম, তখন স্বীকার করলো, ঢাকা গেছে, তবে এখনো বলে নাই কেন গেছে।। আমার তো দোস্ত সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, আমি আসলে বুঝতেছি না, আর সাথে কে ছিলো তাও অনুমান করতে পারছি না, বিন্তি তো বললো ও একাই গেছে, একাই আসছে।।

আমি একটু ভেবে বললাম- দোস্ত, সাথে যে ছিলো সে যে বিন্তির পরিচিতই এমন নাও হতে পারে।। অনেক সময় হয় না, পাশাপাশি অপরিচিত কেউ বসলে অল্প বিস্তর আলাপ আলোচনা হয়, আর বুঝিস তো টাংগাইলের বাসে উঠলে কত পরিচিত লোকের সাথেই তো দেখা হয়ে যায়।। কিন্তু এটাও ঠিক দুইজনেই করটিয়া নেমে গেছে।।

রাহাত বললো- তিন চার বছর প্রেম করে বিয়ে করার পর, বউকে কি এভাবে সন্দেহ করতে ভাল্লাগে বল।। আমার কথা হইলো, ঢাকা কেন আসছিলো ও, এইটা আসল কথা।। জিজ্ঞেস করলাম, বললো বাসায় এসে বলবে।। দেখি কি বলে।।

আরও কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক আলাপ করে রাহাতকে বিদায় দিলাম।। শান্তার রোগের ব্যাপারটা রাহাতের সাথে শেয়ার করতে গিয়েও আর করা হলো না।।


ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | প্রথম পর্ব

ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | দ্বিতীয় পর্ব

আস্তে আস্তে মনে হচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাবো, এতসব চিন্তা মাথায় জেঁকে বসেছে, ভাবতে পারছি না।। কে না রহস্যময় আচরণ করছে আমার সাথে, সিজার কথা আর কাজে সন্দেহ, শান্তাকে নিয়ে আছি বিশাল ঝামেলায়, রাহাত নিজে পড়েছে আরেক চিন্তায়, নিতুকে আমার জীবনে ফিরে পাবার কোন সম্ভবনাও নেই।। কি সব হচ্ছে কে জানে, নিজের মধ্যে আর চাপ নিতে পারছি না।। মাঝে মাঝে আমার এমন হতো, মন মেজাজ খুব ভালো, আবার হুট করে কারণ ছাড়াই খারাপ হয়ে যেতো।। একটা সময় সিজার কথা শুনে শুনে মনে হতো আসলেই আমার মধ্যে ডুয়েল পারসোনালিটি আছে, এমনকি মাল্টিপল পারসোনালিটি থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই।। আর এখন মন ভালো হবার সুযোগই নেই, কি এক গভীর চিন্তায় পতিত হলাম কে জানে।।

একটা ক্লু পেলাম, শিলার সাথে কথা বলে।। শিলা জানালো শান্তার সাথে সিজার নিয়মিত কথা হয়, যেটা আমার অজানা ছিলো।। ইদানীং নাকি কথা বলা আরও বেড়ে গেছে, এমনকি শান্তা এমন কিছু কাজ করেছে যা কিনা শিলাকেও আড়াল করে যায়।। আমি শিলার সাথে কথা শেষ করে নতুন করে ভাবতে বসলাম, এমন তো হতে পারে সিজা শান্তাকে এই মানসিক সমস্যা থেকে উদ্ধার করতে কথা বলা বাড়িয়ে দিয়েছে, আবার সিজাকে সন্দেহের তালিকায় রাখলে এর বিপরীতও হতে পারে।।

সিজার ব্যাপারে জানার জন্যে আমি উদগ্রীব হয়ে গেলাম, সিজার ভিতরে কিছু একটা চলছে।। সে হয় আমার অগোচরে আমাদের ভালোর জন্যে কিছু করছে, নয়তো আমাদের ক্ষতি করে যাচ্ছে।। কিন্তু আমাদের ক্ষতি করার কারণ কি হতে পারে, অন্তত আমার জানামতে এমন কোন ব্যাপার নেই যে সিজা জেনে বুঝে আমাদের ক্ষতি করবে।।


রাহাতকে একটা কল দিলাম, ওর সাথে আমার আরও কিছু কথা বলা দরকার।।

হ্যালো, দোস্ত কই তুই টাংগাইল গেছিস??

-হুম দোস্ত, এই তো ঘন্টা খানেক আগে বাসায় আসলাম।। তুই কই??

আমিও বাসায়।। আচ্ছা শুন, তুই বিন্তির কাছ থেকে ভালো করে শুন না, কেনো সে ঢাকা আসছিলো, আর তুই এই ব্যাপারটা এত সহজে ছেড়ে দিচ্ছিস কেনো??

-দোস্ত, আমি ছেড়ে দেই নাই রে।। আমি প্রশ্ন করলে সে বিরক্ত হয়, বলে যে সে বাসায় এসে বলবে।। আমি কি করবো বল??

আচ্ছা তোর সিজার কথা মনে আছে? আমার বান্ধবী ছিলো যে!!

-হ্যাঁ মনে আছে তো, ওর সাথে আমার মাঝে মাঝে কথাও হয়।। কেন কি বিষয়??

আমি একটু ধাক্কা খেলাম, সিজার সাথে রাহাতের কথা হয় মানে, এ কেমন কথা! রহস্যতো আরও ঘনীভূত হচ্ছে।। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি ধরণের কথা হয়।।

-এই ধর হাই হ্যালো, খোঁজ খবর নেয়।। আবার ধর বিন্তির সাথেও কথা বলতো মাঝে মাঝে।। ও তো সাইকোলজি নিয়ে পড়ছে না, আমাদের অনেক পরামর্শ দিতো আর কি।।

এবার আমার চূড়ান্ত অবাক হবার পালা, কেনো যেনো মনে হচ্ছে বিন্তির ঢাকায় আসা নিয়ে রহস্য করার পিছনেও সিজার হাত আছে।। যেখানেই হাত দিচ্ছি খালি সিজা, সিজা আর সিজা।।

রাহাতের সাথে কথা শেষ করলাম, যদিও সে বার বার জানতে চাইলো আচমকা সিজার কথা কেন জিজ্ঞেস করলাম।। আমি সযত্নে এড়িয়ে গেলাম, মনে মনে ভাবলাম বলবো, তবে সব জট খুলে গেলে।।
কাল সিজাকে পাকড়াও করবো, একে একে সব ঘটনার ব্যাখ্যা চাইবো, দেখি সে কি ব্যাখ্যা করে।। 

ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | প্রথম পর্ব

ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | দ্বিতীয় পর্ব


সিজার সাথে আবার ওর অফিসের ক্যাফেতে বসে আছি।।

আমি সিজার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললাম- আচ্ছা সিজা একটা কথা বল তো, তুই কি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছিস??

সিজা আমার চোখ থেকে চোখে সরিয়ে নিচে তাকিয়ে বললো- কি লুকাবো, বুঝি নাই!!

-কি লুকাবি বলতে, এমন কিছু যা তুই আমাকে মিথ্যে বলেছিস কিংবা তুই আমাকে জানাস না।।

সিজা অবনত মস্তকেই বললো- না এমন কিছু নেই, তুই ঠিক কি জানতে চাস ক্লিয়ার করে বল??

-তোর সাথে নিতুর ফোনে নিয়মিত কথা হয়, ইভেন তুই নিতুকে কি সব বলিস যা আমি জানি না।। তুই রাহাতের বউ বিন্তির সাথেও কথা বলিস, তুই শান্তার সাথেও ফোনে অনেক কথা বলিস।। তুই আসলে কি চাস্‌ বল তো??

সিজা কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় কোথা থেকে একটা মেয়ে আমাদের টেবিলের কাছে এসে বললো- হাই সিজা।।

সিজা যেনো আমার প্রশ্নবানকে অতিক্রম করার একটা তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী পেলো।।


সে ওই মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো- আরে তানিয়া আপু, বসো।। পরিচয় করিয়ে দেই, আমার ফ্রেন্ড বলছিলাম না শোভন, এটাই শোভন।।
সিজা আমাকে দেখিয়ে বললো।।

আমি সৌজন্যতা দেখিয়ে উনাকে বসতে বললাম।। উনি ইতস্ততা করেও বসে পড়লেন পাশের একটা খালি চেয়ারে।।

তারপর সিজার দিকে তাকিয়ে বললেন- সিজা, তুমি কি কাল পিয়াসের সাথে কথা বলছো, ওর কল লিস্টে প্রায়শই তোমার নাম্বার দেখি।।

সিজার চোখমুখ কেমন যেনো মুহূর্তেই শুকিয়ে গেলো, একপ্রকার নার্ভাস হয়ে গেছে মেয়েটা।। আমি ঘটনার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।। নির্বাক দর্শক হয়ে তাকিয়ে আছি, যদি কিছু বুঝা যায় আর কি।।


সিজা তানিয়াকে একপ্রকার মুখ লুকিয়ে বললো- আপু তোমাকে পরে বলবো নে, চল উপরে যাই।। আমার অনেকগুলো কাজ জমে আছে।।
আমি আরেক দফা অবাক হলাম, স্পষ্ট বুঝতে পারছি সিজার মধ্যে বিরাট এক ঘাপলা আছে।। কিন্তু মেয়েটা বার বার পালিয়ে যাবার সুযোগ পাচ্ছে, এবারও ঠিক তাই হলো।।


সিজা কেমন যেন তড়িঘড়ি করে আমাকে বিদায় করলে বাঁচে, এমন আচরণ করে ক্যাফে থেকে বের হয়ে গেলো।। তানিয়াও সিজার সাথে যাচ্ছে, কিন্তু উনি পিছনে তাকিয়ে আমাকে বসে থাকার ইশারা করলেন মনে হচ্ছে।। আমি ইশারা বুঝে না বুঝে বসে রইলাম, এমন ও তো হতে পারে তানিয়া আমার সাথে কথা বলতে চান।।


বেশ কিছুক্ষণ ওখানে বসে থাকার পর সত্যি সত্যি তানিয়া আমার কাছে আসলেন।।

আমার দিকে তাকিয়ে উনি প্রত্যাশিত একটা চাহনি দিলেন, আমিও ভরসা পেলাম, যাক্‌ এখানে বসে থেকে ভালোই করেছি।।

তানিয়ে এসে আমার মুখোমুখি বসে বললেন- আপনার নাম তো শোভন তাই না, সিজার ফ্রেন্ড আপনি??

আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম।।

উনি বলে গেলেন- আসলে সিজার সাথে আপনাকে এর আগেও একদিন দেখলাম এখানে, ঐদিন আর কাছে আসি নি, আজ আর না এসে পারলাম না।। আপনাকে একটা সতর্কতা বাণী দিতে চাই আসলে।।

আমি চেয়ার টেনে একটু এগিয়ে বসলাম, মনে হচ্ছে কিছু একটা জানতে যাচ্ছি, যা আমি জানতে চাই।।

আমি তানিয়াকে বললাম- কিন্তু আপু, এসব ভাবার কারণ কি, মানে সিজাকে নিয়ে আপনার ভয় কিসের?? আরেকটা কথা জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে কিনা, সিজাকে যে তখন প্রশ্ন করলেন আর কি, ওইটা কি ব্যাপারে?? বলা যায় কি??

-দেখেন শোভন, আমার ধারণা সিজা আমার হাজবেন্ডকে ফোন করে উল্টাপাল্টা কথা বলে আমার নামে।। কিন্তু পিয়াস এগুলো স্বীকার করে না,  সিজাকে আজ জিজ্ঞেস করলাম, কেমন এড়িয়ে গেলো দেখলেন তো।। আমার ধারণা সিজা এসব ঝামেলা করে মজা পায়, ওর একটা সমস্যা আছে, আমি অনেক দিন থেকেই খেয়াল করছি।।

আমি কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে বললাম- কি সমস্যা??

তানিয়া বলে যাচ্ছেন- আমার ধারণা সিজার মধ্যে ডুয়েল পারসোনালিটি আছে।। সে মাঝে মাঝে খুব অদ্ভুত আচরণ করে, একাধারে সে অফিসে খুবই হাম্বল পারসন, আবার মাঝে মাঝে মনে হয় এর কথা ওরে বলে, ওর কথা এরে বলে মজা পায়।। কিছু একটা ব্যাপার আছে, আসলে আমি জানি না আপনাদের ফ্রেন্ডশিপ কেমন আপনি কি এমন কিছু খেয়াল করেছেন??

তানিয়ার কথা শেষ না হতেই, আমি ভাবতে শুরু করলাম, লোকে বলে আমার মধ্যে ডুয়েল পারসোনালিটি আছে, এখন শুনি সিজার মধ্যেই নাকি এটা আছে।। আমার তো এখন মনে হচ্ছে, আমার মধ্যে ডুয়েল পারসোনালিটি থাকলেও তা চিন্তায় চিন্তায় শেষ হয়ে গেছে।।
আমি একটু চিন্তা করে তানিয়াকে বলতে শুরু করলাম- আপু আমার ধারণা, আমি তো তাহলে রীতিমত সিজার ভিক্টিম।। সিজা মনে হয় তাহলে সব ঝামেলা করছে, আপনাকে কিভাবে বলবো সে অনেক কাহিনী।। কিন্তু সিজা নিজে না একজন সাইকোলজিস্ট, তাহলে ও কিভাবে এসব রোগে আক্রান্ত??

তানিয়া মৃদু হেসে বললেন- আরে ভাই সাইকোলজিস্ট তো আমি নিজেও, কিন্তু ফায়দা কি রে ভাই, সিজার ব্যাপারটা আমি ক’দিন থেকেই নোটিশ করছি।। কিন্তু ওভাবে প্রমাণ করার কোন উপায় নেই।।

আমি বললাম- আচ্ছা ব্যাপারটা কি এমন যে ও সবার মধ্যেই এমন গ্যাঞ্জাম, মানে ঝামেলা লাগিয়ে মজা পায়।।

তানিয়া বললো- হতে পারে, দেখা গেলো ওর এক সত্তা ভালো তো আরেক সত্তা ভয়াবহ নেগেটিভ।। আরেকটা ব্যাপার হয়, এমন বয়সে অবিবাহিত মেয়েদের অনেক ধরণের মানসিক সমস্যা হয়, এই বিয়ে না করার সাথে সাথে পারিবারিক সামাজিক চাপ অনেক সময় এমন করে ফেলে তারা তখন অন্যের সুখের সংসার, অন্যের রিলেশন ভালো থাকা, এসব সহ্য করতে পারে না।। আস্তে আস্তে নিজের অজান্তেই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে যায়।। এগুলো আসলে বিশদ করে বলতে হবে, এভাবে বুঝানো সম্ভব নয়।।
 

আমি কিছুক্ষণ নিজের মধ্যে বিড়বিড় করলাম, তারপর তানিয়াকে বললাম- আচ্ছা, তারমানে হচ্ছে সিজা নিজেই মানসিক রোগী, আর সে এভাবে একেক সময় একেক ভাবে সবার ক্ষতি করছে।।

তানিয়া মাথা নেড়ে বললো- এখন পর্যন্ত আমার তাই ধারণা, তবে আমিও পুরোপুরি সিওর না।।

আমি তানিয়ার সাথে আরও কিছুক্ষণ কথা বলে, সিজাদের অফিস থেকে বেরিয়ে এলাম।।

আপাতত কোন গন্তব্য নেই, অফিস থেকে বের হয়ে রাহাতকে কল দিলাম।। রাহাতকে বললাম, সোজা বিন্তিকে জিজ্ঞেস কর, ও ঢাকায় সিজার সাথে দেখা করতে আসছিলো কিনা।। জিজ্ঞেস করে, আমাকে জানা, বিন্তি বলতে ধানাই পানাই করলে ভালো করে চাপ দে, কিন্তু জানতেই হবে ব্যস।।

রাহাত খানিক বাদে জানালো, হুম বিন্তি নাকি সিজার সাথেই দেখা করতে গেছিলো।। তারমানে আমার ধারণাই ঠিক, এইসব কিছুর পিছনে সিজা আছে, আমি যাস্ট হিসাব মিলাতে শুরু করলাম।। যেভাবেই হোক, সিজার সাথে শান্তা শিলার যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হবে, আর নিতুর সাথে দেখা করতে হবে, যে কোন মূল্যে।।

আমি সিজাকে কল দিয়ে বললাম, তোর অফিস শেষ কয়টায়, সে জানালো রাত ৯ টায় শেষ হবে, আমি বললাম আমি নয়টায় তোর অফিসের সামনে থাকবো, তোর সাথে আমার কথা শেষ হয় নাই।। সিজা আমতা আমতা করলো, বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে চাইলো, আমি পাত্তা দিলাম না, সোজা বলে দিলাম আমি তোর অফিসের নিচে থাকবো।।

নয়টায় অফিসের এখানে এসে সিজাকে একটার পর একটা কল দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সে রিসিভ করছে না।। আমি বেশ কিছুক্ষণ পর ওদের অফিসের রিসিপশনে গিয়ে বসলাম, পরে শুনলাম সিজা নাকি ছুটি নিয়ে সন্ধ্যা ৭ টার দিকেই বের হয়ে গেছে।। আমি যাস্ট থ এই কথা শুনে।। সিজা তো ধরাই দিতে চাচ্ছে না, এমন লুকোছাপা কিভাবে সম্ভব।। আমি অফিস থেকে বের হতে যাবো, এমন সময় পিছন থেকে কে যেনো এই যে শোভন বলে ডাক দিলেন।। তাকিয়ে দেখলাম, তানিয়া।।

উনার সাথে কথা হচ্ছিলো, উনি জানালেন, সিজার ব্যাপারে অফিস সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সিজা সত্যি সত্যি মানসিকভাবে অসুস্থ, সবাই এটা খেয়াল করেছে।। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ওকে জব ছাড়ার নোটিশ দেয়া হতে পারে।। 

আমি এই কথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।। সিজাকে নিয়ে সত্যি চিন্তা হচ্ছে, মেয়েটা কি আসলেই পাগল হয়ে যাচ্ছে।। 

এমন সময়, সিজা আমাকে কল দিলো।। আমি একটু অবাক হয়ে কল রিসিভ করলাম।। সিজা জানালো ও হাতিরঝিলে বসে আছে, আমি চাইলে ওখানে আসতে পারি।। কল কেনো রিসিভ করলো না, অফিস থেকে আগে কেন বের হলো, এসবের কোন ব্যাখ্যা দিলো না, শুধু বললো আমি যেনো ওর সাথে মিট করি এখুনি, আমার জন্যে চমক আছে।।

হাতিরঝিল গিয়ে ফোন দিয়ে জেনে নিলাম কোথায় বসে আছে, তারপর সিজার সাথে নিতুকে দেখে সত্যিই চমকে গেলাম।।

আমি নিতুকে দেখে বললাম- তুমি এখানে কিভাবে??

নিতু মুচকি মুচকি হাসছে, কিছু বলছে না।। সিজার মুখেও হাসি, অদ্ভুত এক হাসি।। সিজা আমাকে বলতে শুরু করলো- শোভন, ফাইনালি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা শেষ।। আমার ধারণা তুই এখন সুস্থ, তোর সব সমস্যা শেষ, তুই এখন নিতুকে বিয়ে করে ফেল, ব্যস।।

আমি অবাক হয়ে বললাম- মানে কি আমি কবে অসুস্থ ছিলাম বল তো?? কি বলতে চাস, বুঝিয়ে বল??

সিজা এবার বিজয়ের হাসি দিয়ে বললো- প্রথম থেকে বলি, তোর আর নিতুর সম্পর্ক ভেঙে গেছে কারণ নিতু তোকে অতিরিক্ত সন্দেহ করতো।। আর তুইও সন্দেহ করার মতই কাজ করতি, কারণ তোর মধ্যে দ্বৈত সত্তা কাজ করতো, বিশেষ করে আন্টি চলে যাবার পর থেকে।। তারপর তোদের মধ্যে ফেসবুক নিয়ে ঝামেলা হতে হতে সম্পর্ক প্রায় শেষ, আন্টি চলে যাবার পর থেকে তুই নিতুর সাথে যা তা ব্যবহার করা শুরু করলি, ব্যস একটা সম্পর্ক শেষ হতে আর কি লাগে।। এরপর হয়তো তখনি নিতু তোর লাইফে ব্যাক করতো, কিন্তু কি জানিস সাইকোলজি বলে যদি কেউ সম্পর্ক ভেঙে দেয়, আবার কিছুদিন পরে জোড়া লাগায় তবে আবার তা সহজে ভেঙে যাবার ঝুঁকি থাকে।। যদি কারোর এক বছরের সম্পর্ক ভেঙেই যায়, তবে তার মিনিমাম ছয়মাস দূরে থেকে বুঝে শুনে আবার ওই সম্পর্কে জড়ানো উচিত, যদি সে একই ব্যক্তির সাথে আবার জড়াতেই চায়।। তোদের সম্পর্ক ভেঙে যাবার পর নিতু যখন আমার সাথে যোগাযোগ করে আমি ঠিক এই কাজটাই করি, আর ভেবে দেখ তুইও অন্য কারো সাথে জড়িয়ে যাস্‌ নাই।। এখন দেখবি তোদের এই সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো চলবে।।

আমি সিজার কথা শুনে সত্যি থ হয়ে গেলাম, এবার আমার মুখে কোন কথা নেই, থিতু হয়ে বললাম- আচ্ছা রাহাতের বউ কেন তোর সাথে দেখা করতে এলো?? বল তো?? আরও বহুত কাহিনী আছে, তোর কাছে আমার জিজ্ঞেস করার।।

সিজা বলে যাচ্ছে- ওকে, শান্তা একদিন কথায় কথায় রাহাতের প্রতি ওর দুর্বলতার কথা জানায়।। ইভেন সে এগুলো বলে যে, সে রাহাতকে ম্যাসেজ দেয়, কথা বলতে চায়, রাহাতের বিয়ের পরেও।। আমি রাহাতের সাথে যোগাযোগ করলাম, বুঝতে চাইলাম ওর আবার বাজে কোন ইনটেনশন আছে কিনা।। আমি এসব তোকে জানাই নাই কেনো সেসব পরে ব্যাখ্যা করবো, আগে শুনে যা।। পরে, রাহাতের সাথে কথা বললাম, বিন্তির সাথে কথা বললাম, বিন্তিকে সতর্ক করে দিলাম, রাহাতের ব্যাপারে।। বিন্তি উল্টা ভুল বুঝলো, পরে তাকে এখানে আমার অফিসে ডেকে এনে সরাসরি কথা বললাম, একদম সব বুঝিয়ে বললাম।। কাকতালীয় ভাবে, তুই ওকে বাসে দেখে ফেললি, আমাকেও বললি, আমি একদম না জানার ভান করে গেলাম।। বল তোর আর কি জানার আছে??

আমি বিস্ময় নিয়ে হিসাব মিলাচ্ছি, আবার বললাম- তুই অফিসের তানিয়া না কি উনার জামাইকে কল দিস কেন, আর উনি কি বলে জানিস উনি বলে তোর নাকি ডুয়েল পারসোনালিটির সমস্যা আছে।। আর বিন্তি কি একা আসছিলো ঢাকায়, নাকি সাথে কেউ ছিলো??

সিজা একটা হাসি দিয়ে বলে- একাই আসছিলো তো, আর শুন বুদ্ধু এই সমস্যা তো তোর আছে, আর এই সমস্যা দূর করার উপায় হলো তোর পজেটিভ পারসোনালিটিকে ব্যস্ত করে দেয়া, এইদিকে তুই যত বেশি ব্যস্ত থাকবি, তত ওইদিক থেকে সরে আসবি।। আমি একটু আগে বললাম না, তুই সুস্থ এখন।। আর তানিয়ার ব্যাপারটা পুরোটাই প্ল্যানিং বুঝলি, ইভেন আমিই এগুলো উনাকে বলতে বলেছি।। আমার ধারণা তোর পজেটিভ পারসোনালিটি যখন চিন্তায় চিন্তায় কাবু হবে তখন তুই অন্য পারসোনালিটিতে ঢুকতে পারবি না।।

আমি আবার সিজাকে প্রশ্ন করে বললাম- আর শান্তার এমন ব্যবহার ঐদিন যা বললি তুই, এগুলোর ব্যাখ্যা কি?? নিতু এতক্ষণে মুখ খুললো, সে আমাকে বললো- শোভন, আমাকে বাসায় যেতে হবে, অনেক রাত হয়ে গেছে, তোমরা না হয় পরে কথা বইলো, আমি আজ যাই, তুমি কি বাসায় দিয়ে আসবে??

সিজা নিতুর দিকে তাকিয়ে বললো- এই আর কয়েকটা মিনিট, আমিও যাবো।।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে সিজা বললো- আসলে শান্তার সমস্যাটা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, ওর এই সমস্যা আস্তে আস্তে কেটে যাবে।। বিশ্বাস রাখ আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো এই সমস্যা দূর করার জন্যে।। ইভেন শান্তা এই ট্রমা থেকে অনেকটা বেরও হয়ে আসতেছে, আমি রোজ ওর সাথে অনেক অনেক কথা বলি।। তোর ডুয়েল পারসোনালিটি থেকে বের হতে বিধাতার একটা সাহায্য হতে পারে, শান্তার এই মানসিক সমস্যা।। মানে ধর শান্তাকে নিয়ে তুই এত ভেবেছিস, যেটা কোন প্ল্যানিং ছিলো না, তোর দ্বিতীয় সত্তা এখানে জাগার কোন সুযোগই পায় নি।। তবে, ভয় নেই, শান্তাও দ্রুত সুস্থ হবে।।

আসলে, সব হিসাব কি মিলে যায়, কিছু হিসাব যেনো থেকেই গেলো, কোথায় যেনো একটা কিন্তু আছে।। সিজা হয়তো সব সত্যি কথা বলে নি, নাকি সিজাই সব সত্যি বললো।।

আমি নিতুকে নিয়ে ওর বাসার দিকে যাচ্ছি, সিজার বাসা রামপুরা বনশ্রী আর নিতু থাকে শুক্রাবাদ, তাই হাতিরঝিল থেকেই আমরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছি।। নিতুকে এতদিন পর কাছে পেয়ে অন্যরকম একটা উচ্ছ্বাস কাজ করছে, কিন্তু নিতু তেমন আহামরি কোন আনন্দ দেখাচ্ছে না, বরং ওর বাসায় যাওয়ার তাড়া অনেক।। নিতুকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজের বাসার দিকে যাচ্ছি, এমন সময় একটা ম্যাসেজ আসলো সিজার নাম্বার থেকে-

তোকে ভালোবাসি!! তোর সব সমস্যাই, আমার সমস্যা!!
তোর জন্যে ছিলাম, তোর জন্যেই থাকবো!!
তুই সুস্থ হয়ে গেছিস, ভালোবাসি তোকে!!

আগেই রহস্যের সব জট খোলা বাদ ছিলো, নতুন এই ম্যাসেজ আবার কিছু প্রশ্নের জন্ম দিলো।।

আপাতত এখানেই শেষ, যদি কোনদিন জানতে পারি, সিজার মনে আসলে কি চলে, আমি কি সত্যিই ডুয়েল পারসোনালিটির রোগী ছিলাম কিনা, শান্তা সত্যিই সুস্থ হতে পারবে কিনা, শেষ পর্যন্ত নিতু আমার হবে কিনা- সব জানা হলে, আমিও জানিয়ে দিবো।।


ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | প্রথম পর্ব

ধারাবাহিক গল্প, মিথ্যে ফাঁদ | দ্বিতীয় পর্ব

……………
সমাপ্ত!!