মিথ্যে ফাঁদ | প্রথম পর্ব

দোস্ত, তোর বোন এটা কি শুরু করেছে, তোর বোনের কারণে তো আমার বউ এখন রীতিমত আমাকে সন্দেহ করে।। তুই কি তোর বোনকে এসব কাজ করতে নিষেধ করবি, প্লিজ!!

খুব কাছের বন্ধু যখন প্রায় মাস চারেক পর কল দিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস না করেই, সরাসরি এই জাতীয় কথা বলে, তখন সত্যি পিলে চমকাতে হয়।। আমি ঝিম মেরে বসে ভাবছি অন্য কথা, বোন বলতে আমার জমজ দুই বোন, শান্তা আর শিলা।। রাহাত ঠিক কার কথা বলে কি বুঝাতে চাচ্ছে, ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।।

আমি একটু আড়ষ্ট কণ্ঠে বললাম- দোস্ত কি সমস্যা, কি বলিস তুই, কে এসব কি শুরু করছে?? মাথা ঠিক আছে তোর??

রাহাত কণ্ঠে সেই একই ঝাঁঝালো সুর- আরে ভাই আমার মাথা ঠিকি আছে, তোর ছোট বোন যা করতেছে, আমি আর নিতে পারছি না।। তোরে বলার ইচ্ছে ছিলো না, কিন্তু এখন না বলে থাকা সম্ভব না, ভাইরে আমার তো বিয়েই ভেঙে যাবে তোর বোন এমন করতে থাকলে।।

আমি এবার চড়া গলায় বললাম- ওই রাহাত তুই কার কথা বলিস, আর কি করছে শুনি??

আমার ধমকে রাহাতের গলা এবার একটু নমনীয় হলো মনে হচ্ছে- দোস্ত শোন আমি জানি তুই আমাকে ভুল বুঝতে পারিস!! কিন্তু তোর ছোট বোন শান্তা মে বি আমাকে পছন্দ করে বা করতো, তুই হয়তো জানিস না।। আসলে দোস্ত আমিও জানতাম না, ইদানিং সে ফোনে ম্যাসেঞ্জারে খুব ডিষ্টার্ব করছে।। দোস্ত তোরে আমি খুলে বলতে পারছি না সব, তুই যাস্ট একটু তোর বোনকে এসব করতে না করে দে, শাসন কর, ব্যাস।। আর আমি সরি দোস্ত তোরে এভাবে বলার জন্যে, বাট আমার কোন উপায় ছিলো না।।

আমার ভিতরে প্রচণ্ড অবিশ্বাস, রাহাতের কথা এক বিন্দুও বিশ্বাস হতে চাইলো না।। রাহাতকে শান্তা পছন্দ করবে অথচ আমি জানবো না, এমনকি কোনদিন আঁচও করতে পারবো না এটা কিভাবে সম্ভব।। আর এমন হয়ে থাকলে, এখানে রাহাতের কিছু না কিছু দায় তো নিশ্চয় আছে।। এদিকে, রাহাত বিয়ে করেছে দুই মাসের মতন হলো, এখন যদি শান্তা নতুন করে ঝামেলা করে থাকে সেটাও আমার কাছে অন্যায় মনে হচ্ছে।। আমি সবচেয়ে অবাক হচ্ছি, আমার ছোট বোন আমার সাথে যথেষ্ট ফ্রি, যদি রাহাতের সাথে তার প্রেম ভালোবাসা থাকতোই তবে কেনো আমি কিছুই জানলাম না।।

আমি রাহাতকে বললাম- রাহাত, তুই কি বুঝতেছিস তুই কি বলতেছিস!! তুই বললি যখন খুলেই বল, তোদের কি প্রেমের সম্পর্ক ছিলো, এমন কিছু??

রাহাত স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে যাচ্ছে- না রে দোস্ত, বিশ্বাস কর, কসম এমন কিছু ছিলো না।। শান্তা মাঝে মাঝে আগে ম্যাসেজ দিতো, ভাইয়া ভাইয়া করতো, আমিও আদর করে বোনের মত করে কথা বলতাম ব্যাস।। আর তুই বল এমন কিছু থাকলে তোর তো জানার কথা।। আর দোস্ত বিন্তির সাথে আমার পাক্কা তিন বছরের এফেয়ারের কথা তো সব তুই জানিস, দ্যান বিয়ে, যদিও হুট করে হয়ে গেছে, অনুষ্ঠান বাদ আছে, তোরা আসিস নাই বা আমি ওভাবে জানাতে পারি নাই।। দোস্ত আমি আবারও সরি, আমি বলি কি তুই শান্তাকে জিজ্ঞেস কর।। কসম, কোন প্রেমের সম্পর্ক তো দূরের কথা কিছুই ছিলো না কিন্তু এখন অদ্ভুত আচরণ করছে তোর বোন, দোস্ত তুই জিগা।।

আমি রাহাতকে বললাম- আচ্ছা, আশা করি সে যদি এমন করেও থাকে, আর করবে না।।

রাহাত বার বার সরি বলতে চাচ্ছিলো, আমি কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দিলাম।।

ব্যাপারটা মাথার মধ্যে জেঁকে বসলো, এটা কিভাবে কি হলো।। রাহাতের কথায় কথায় কসম কাটার অভ্যাস আছে, সে বহুবার কসম কেটে বহু কথাই বলেছে, পরে দেখতাম সেগুলো মিথ্যে।। কিন্তু এই ব্যাপারে রাহাত হুট করে মিথ্যে বলবে না, কিছু একটা লুকায়িত ব্যাপার তো আছেই, দেখি কতদূর কি জানতে পারি।। আমি ঢাকায় ব্যাচেলর থাকি, আমার মা গত হয়েছেন বছর দেড়েক আগে, বোন দুইজন এবার অনার্সে ভর্তি হলো টাংগাইল মাওলানা ভাসানীতে, থাকে আপাতত সাবালিয়া খালার বাসায়, বাবা চাকুরীর সুবাদে থাকেন খুলনা।।

সামনে আমার ল্যাপটপ খোলা, নিচে ডান কোণায় তাকিয়ে দেখলাম, রাত ১২ টা ৩৭ বাজে।। এত রাতে শান্তাকে কল দেয়া ঠিক হবে কিনা আমি বুঝতে পারছি না।। আমার ধারণা, রাহাত আমাকে কিছু একটা মিথ্যে বলেছে, সে লম্বা চওড়া দেখতে বেশ সুদর্শন একটা ছেলে।। সে নিশ্চয়ই শান্তার সাথে এমন কোন সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলো, যা সে লুকিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে।। বিন্তির সাথে ওর প্রেম ছিলো, এটা যেমন সত্য, আবার এটাও সত্য যে বিভিন্ন মেয়ে ঘটিত কারণে মাঝে মাঝে বিন্তির সাথে রাহাতের দীর্ঘ দিন ব্রেকাপ থাকতো।। আমাকে সত্যিটা জানতে হবে, সবার আগে জানতে হবে শান্তার বক্তব্য।।

সাতপাঁচ ভেবে শান্তাকে কল দিলাম, সচরাচর শান্তা শিলাকে এই সময় কল দেয়া হয় না, কিন্তু আজ দিলাম।।

শান্তার কল ওয়েটিং, বুকের বাম পাশটা অযথাই ধক্‌ করে উঠলো।। নিজেকে পরমুহুর্তেই সামলে নিলাম, বার বার আপনমনে ফিলোসফি ঝাড়লাম, বোনেরা বড় হইছে, ওরা আলাদা সত্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এখন।। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভাই সুলভ মন পুরোপুরি সান্ত্বনা নিতে পারছিলো না।।

খানিকবাদেই শান্তা কল ব্যাক করে বসলো, আমি রিসিভ করতে গিয়ে কেটে দিলাম।। আমি আবার ফোন দিলাম-

হ্যালো ভাইয়া, এত রাতে।। আর বইলো না এসাইনমেন্টের জন্যে এক বান্ধবী পুরা পাগল বানিয়ে ফেলেছে, এই রাতে ফোন দিয়ে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করছে।।

আমি শান্তার কথা শুনে মুচকি হেসে দিলাম, মেয়েটা ওভার প্রটেকটিভ হয়ে ফোন ধরেই ওয়েটিং এ থাকার কারণ বলে যাচ্ছে।। অথচ আমি হয়তো তাকে ওয়েটিং নিয়ে প্রশ্নই করতাম না।।

আমি বললাম- হুম, তাহলে কি পরে ফোন দিবো??

-আরে না ভাইয়া, কথা শেষ বলো তুমি, খাইছো কি রাতে??

হুম খাইছি, তোমরা খাইছো?? শিলা কি করে, ও খাইছে??

-শিলাআআ, শিলা শুয়ে আছে, আমরা খাইছি।। তুমি এত রাতে কল দিলা যে??

দিলাম আর কি, মন ভালো নেই।। তোমাদের কি অবস্থা বলো??

-এই তো আমাদের আর অবস্থা, আছি।। মন ভালো নেই কেন? আম্মুর কথা মনে পড়ছে, নাকি??

আম্মুর কথা ভুলি কখন যে মনে পড়বে, শোন তোর সাথে আমার খুব জরুরী কথা আছে বুঝলি, আমি আগামী শনিবার অথবা শুক্রবার রাতে টাংগাইল আসতেছি।।

-কি ব্যাপারে ভাইয়া।।

আছে, আর কি।। তোরা ঘুমা, রাত জাগিস না, ওকে।।

-আচ্ছা, ভাইয়া গুড নাইট।। কিন্তু কি জরুরী কথা, আমার তো এখুনি শুনতে মন চাচ্ছে, না শুনলে ঘুম হবে না তো।।

আরে আছে, আমার একটা মেয়ে পছন্দ হয়েছে এই ব্যাপারে কথা বলবো।।

-ইয়াহু, সিরিয়াস ভাইয়া ফাইনালী, তুমি নিতু আপুর কথা ভুলতে পারছো, গ্রেট, কে গো ভাইয়া কে??

শান্তার খুব উত্তেজিত কণ্ঠ।।

সব পরে বলবো, এখন ঘুমা, বাই ফোন রাখলাম।।

-ওকে, ওকে তাড়াতাড়ি আসো।।

ফোন রেখে ভাবতে বসলাম, কাল নয় পরশু আমাকে টাংগাইল যেতে হবে।। মিথ্যে করে যে কথাগুলো শেষে শান্তার সাথে বললাম, এটা না বলে উপায় ছিলো না।। আমার বোনগুলো আসলে শুধু আমার বোন না, মা চলে যাবার পর থেকে ওরা আমার কাছে বাচ্চার মতন।। এই যেমন বলে ফেলেছি জরুরী কথা আছে, এখন কি সেই কথা না শুনে ছাড়বেই না, তাই অগত্যা এসব বলা।। আর ফোনে আমি মূল ব্যাপার আলাপ করতে চাচ্ছি না, আসলে এই ব্যাপারগুলো ফোনে ফোনে বুঝানো সম্ভব নয়, আমি সরাসরি কথা বলে দেখি কি হয়।। খুব হাঁসফাস লাগছিলো, কি করবো চূড়ান্ত ভাবে ঠিক করতে পারছিলাম না।। নিতুর কথাও মনে পড়ে গেলো, আম্মুও চলে গেলো, মেয়েটাও কিভাবে যেনো জীবন থেকে সরে গেলো, আসলে জীবন থেকে কিছু যখন যায় তখনএকে একে সব যায়।। এই যেমন বাবার সাথেও আমার সম্পর্ক শিথিল, মাঝে মাঝে মনে হয় আমার বুঝি এই দুনিয়াতে ঐ দুইটা ছানাপোনা ছাড়া আর কেউ নেই।।

ভাবছি সিজাকে একটা কল দিবো, মেয়েটা রাত জাগে, অনেক রাত জাগে।। মাঝে মাঝে এমন হয় যে সে রাতে ঘুমায় না, আবার দিনে অফিস করে।। সিজার জন্যে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হলো- সে টানা দুই তিনদিন দিব্যি না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে, তার চোখে কোন ক্লান্তি নেই, দেখে বোঝাই যাবে না।। সিজা হলো আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বান্ধবী, এখন তো আমাদের দু’জনেরই পড়াশোনা শেষ।। সে সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের টপার ছাত্রী ছিলো, মাঝে ছয়মাস মেহতাব খানমের সাথে কাজ করেছে গুলশান অফিসে।। এখন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে সাইকোলজিস্ট হিসেবে নিযুক্ত আছে, মোটা টাকা স্যালারি পায়, কি মনে করে যেনো বিয়ে থা করছে না।। আম্মু চলে যাবার কিছুদিন পর, সিজার সাথে শান্তা শিলার একটা ভালো বন্ধুত্ব করিয়ে দেই।। তখন শান্তার কিছু মেয়েলি সমস্যা দেখা দেয়, ওভারিতে কি যেনো হয়।। এসব ব্যাপারে কার সাথে খোলাখুলি কথা বলবে, এই সংসারে তো আর মা নেই, এক আমি ভাই আর বাবা, তাই বুদ্ধি করে সিজার সাথে ওদের সম্পর্কটা বন্ধুর মত করে দেই।। আমার ধারণা, আমাকে শান্তা শিলা কিছু না জানালেও সিজাকে জানাতে দ্বিধা বোধ করবে না।। আর এই ধারণা থেকেই সিজাকে কল দেয়ার কথা চিন্তা করা।।

দোস্ত কি অবস্থা!! এত রাতে আমাকে স্মরণ করলা, আমি তো ধন্য।।

-তোর ধন্য হওয়া লাগবে না, কালকে বিকেলে আমাকে একটু সময় দিতে পারবি, তুই বললে তোর অফিসেও আসতে পারবো।।

কি বিষয় রে, আবার প্রেমে পড়লি নাকি, তোদের ছেলেদের কি এক পাখি উড়াল দিলে, অন্য পাখি এসে পড়ে!!

সিজা হাসছে, এসব বলে।।

আমিও হেসে হেসে বললাম- আমার ডালে জায়গার অভাব নাই রে, আরেক পাখি বসতে চাইলে বসতে পারে, তাতে আগের পাখির উড়াল দেয়া লাগবে না, আসল কথা বল সময় আছে তোর??

জাঁহাপনা আপনার জন্য অলওয়েজ আমি ফ্রি, বাট কাল অফিস আমার ৯ টা পর্যন্ত, তুই অফিসে চলে আয়, আমাদের ক্যাফেতে বসবো নে।।

-ওকে দোস্ত, থাক্‌ তাইলে কালকেই কথা হবে।।

দোস্ত সিরিয়াস কোন ইস্যু??

-না দোস্ত, বলবো নে কালকে, যা ঘুমা।।

আমি কি আর ঘুমাই রে, ওকে থাক বাই।।

আমি একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, সিজার সাথে কথা বললেই কেমন যেনো ভরসা পাই, মেয়েটা সত্যিই একদিন ভালো সাইকোলজিস্ট হতে পারবে।। ওর ধ্যান ধারণা সব আমার থেকে আলাদা, কিছু কিছু জিনিস এত সুন্দর ব্যাখ্যা করে না, সোজা তাক লেগে যাই।।

……………

সিজার সাথে ওর অফিসের ক্যাফেতে বসে আছি, আজকাল মেয়েটা বড্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।। আগে দেখতাম, আমি আসবো এই খুশিতে পারলে অফিসের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো, আর আজ পাক্কা আধা ঘণ্টা এখানে শুকনো মুখে বসে ছিলাম।। সিজা কিছুটা মুটিয়ে গেছে ইদানিং, উচ্চতাও খুব একটা ভালো না, গায়ের রঙ শ্যামবর্ণই বলা চলে, কিন্তু ওর চোখের মধ্যে প্রগারতা আছে।। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো ওর কথা বলার ধরণ, ওর কথা যতই শুনি, খালি শুনতেই মন চায়।।

বেশ কিছুক্ষণ সাধারণ আলাপ-সালাপ করে, মূল প্রসঙ্গে আসলাম।। সিজা রাহাতকে চিনে, তবে রাহাত আমার স্কুল-কলেজ জীবনের ফ্রেন্ড, যার ফলে রাহাতের ভার্সিটি পড়াশোনা, ফ্রেন্ড সার্কেল আলাদা।। সিজার সাথে হয়তো রাহাতের চার-পাঁচবারের মত দেখা হইছে জীবনে।। আমি সিজাকে সরাসরি রাহাতের গতকাল রাতে বলা সব কথা খুলে বললাম।। সিজা খুব মনযোগী শ্রোতাও বটে, এইগুলো হয়তো ওর পেশার সাথে যায়, তাই।।

সিজা খানিক ভেবে আমাকে বললো- রাহাতের কথা সত্য হলে শান্তা ইরাটোমেনিয়া প্রাইমারি ডিসঅর্ডারে ভুগছে।।

আমি ডানে বামে তাকিয়ে সিজাকে বললাম- একটা থাপ্পড় মারমু ফাউল, তুই সব কিছুতেই মানুষের মানসিক সমস্যা খুঁজে পাস।। আমার কি সমস্যা বল??

সিজা হেসে বলে- তোর তো ডুয়েল পারসোনাল ডিসঅর্ডার আছে, তুই তো কল্পনার জগতে বাস করিস।।

আমি বললাম- আচ্ছা হারামী, এবার বল, তোর কি সমস্যা??

সিজা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো- জানি না, তবে আমি সিজোফ্রেনিয়া রোগী হয়ে যেতে পারি, মানসিক একজন ক্যান্সারের রোগীর মত।।

আমি পরিবেশ হালকা করার জন্যে বললাম- দোস্ত, তুই কি শান্তাকে জিজ্ঞেস করবি কিছু, বুঝ নিজের কাছের বন্ধু যদি আপন বোনের নামে এভাবে রিপোর্ট দেয়, আমার তো মইরা যাইতে মন চায় লজ্জায়।।

সিজা আমার হাত চেপে ধরে বললো- তোকে কিছু কথা শুনাই, শুনে যা।। তারপর বল, শান্তার আসলে কি হইছে।।

-বল?? শুনছি আমি……

সিজা দম নিয়ে একনাগারে বলে গেলো- ইরাটোমেনিয়া প্রাইমারি ডিসঅর্ডার সাধারণত দুই ভাবে শুরু হতে পারে।। ধর তোকে একটা মেয়ে পছন্দ করে, কিন্তু তুই করিস না।। করিস না মানে একদম ইগনোর করিস, পাত্তা দিস না।। তবু মেয়েটা তোকে ভয়ানক পছন্দ করে।। এখন ঐ মেয়েকে তুই যত ইগনোর করবি, ঐ মেয়ের ভালোবাসা তত বাড়বে, পাগলের মত তোকে পেতে চাইবে।। তোকে না পেলে চূড়ান্ত মানসিক রোগীও হয়ে যেতে পারে, যদি না কেউ তাকে এই ট্রমা থেকে বের করে আনে।। আবার মজার ব্যাপার, তুই ধর তাকে পাত্তা দিলি বা তার কথা মেনে নিয়ে সম্পর্ক শুরু করতে চাইলি।। এবার দেখ কি ঘটে, এবার তোর প্রতি তার ভালোলাগা কমে যাবে।। তুই যত পাত্তা দিবি, সে তত মুডি হবে।। একসময় তোকে আর তার ভালো লাগবে না, সে তোকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইবে।। তুই হয়তো তখন বাধ্য হয়ে সরে যাবি, আবার সে তোর প্রতি আসক্ত হবে।। এটা একটা সার্কেলের মত ঘুরপাক খাবে।। ইভেন তুই অন্য কাউকে বিয়ে করে ফেললেও রক্ষা নাই।। মেয়েটা ভেবেই নিবে তুই তার সাথে প্রতারণা করেছিস।। এই যন্ত্রনায় সে রাতদিন জ্বলবে, আর সবাইকে বলে বেড়াবে।।

কি বুঝলি দোস্ত??

আমি সিজার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনে যাচ্ছিলাম।। তবে এসব কথা বিশ্বাস হচ্ছিলো না, তবুও প্রশ্ন করলাম- আরেকটা কিভাবে শুরু হয় রে??

সিজা আমার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বললো- বলছি, এবার বল কি খাবি?? আমার এখানে এলি।।

আমি দ্রুত বললাম- কিছু খাবো না, তোর কথা খাবো, বল নারে বা**ল!!

-আচ্ছা বাপ শুন, এই ব্যাপারটাও অনেকটা আগেরটার কাছাকাছি, কিন্তু শুরুর প্যাটার্ন খানিকটা ভিন্ন।। এখানে ধর তুই মেয়েটার বন্ধু, খুব কাছের না হলেও স্বাভাবিক বন্ধু।। কিন্তু, মেয়েটা মনে মনে ভেবে নিবে তুই তাকে পছন্দ করিস, ভালোবাসিস, কিন্তু বলতে পারিস না।। তুই বন্ধু সুলভ যাই করবি, মেয়েটা সেগুলোকেই তোর অব্যক্ত ভালোবাসা ভেবে বসে থাকবে কিন্তু, নিজে কোনদিন প্রপোজ করবে না।। তোর কাছ থেকে প্রপোজাল আশা করবে।। ধর, তুই প্রপোজাল দিলি না, তুই তো বস্তুত তাকে বন্ধুই ভাবিস, তুই অন্য কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালি।। মেয়েটা আস্তে আস্তে ভয়ানক হয়ে উঠবে, তোর বা তোর প্রেমিকার ক্ষতিও করতে পারে, তুই হয়তো টেরই পাবি না।। কিন্তু, সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটা হলো, তুই যদি ওকে প্রপোজ করতি, সে কিন্তু তোকে সোজা না করে দিতো।। তোকে ভৎর্সনা করতো, তুই বন্ধু হয়ে এটা কি করলি।। কিভাবে তাকে প্রপোজ করলি, ছি ছি করতো রাত দিন।। তোর থেকে দূরে সরে যেতো, তুই যতবার তাকে রাজী করাতে যাবি, ততবার সে তোকে অবজ্ঞা করবে, সবাইকে ফিলোসফি ঝাড়বে সব ছেলেরা এক, বন্ধু হয়ে প্রপোজ করে, এদের দেখলে ঘেন্না লাগে।। আবার, যদি মেয়েটার ছি ছি শুনে তুই দূরে সরে থাকিস, সে তোকে আবার ভালোবাসবে, আবার পেতে চাইবে।। মনে মনে ভাববে, যদি ভালোইবাসে আমার কাছে কেন আবার ফিরে আসে না, আমি তো তাকে শুরুতে না করতেই পারি।। তুই আবার যাবি, আবার সে ছি ছি শুরু করবে, এটাও একটা চক্রব্যূহ।।

এখন বল, কি বুঝলি তুই, ওভারঅল।।

আমি ঝিম মেরে বসে আছি।। মুখে কোন টু শব্দ নেই, কি বলা উচিত আমার।। আমরা সাধারণ মানুষজন তো এভাবে চিন্তাই করতে পারি না।। আচমকা একটা কিছু ভেবে সিজাকে বললাম- আচ্ছা দোস্ত, দুইটা উদাহরণেই তুই মেয়েদেরকেই ডিসওর্ডারের ভিক্টিম বানালি কেন?? এইটার কারণ কি??

সিজা পুলকিত নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে বললো- বাহ্‌ খুব মনোযোগী শ্রোতা তো তুই, সাব্বাস বেটা।। এইবার বলি, শুন শোভন, আমাদের দেহে ডুপামিন হরমোন এই রকম ডিসঅর্ডারের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।। আর এই ডুপামিন হরমোন ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কয়েকগুণ বেশি থাকে।। প্রতি ১০০ মেয়ের অনুপাতে ১ টা ছেলে এই সমস্যায় পড়ে, তাই আর কি মেয়েদের নিয়ে এত কথা বললাম।। আর আমার ধারণা শান্তা রাহাতকে ঠিক একই ভাবে পছন্দ করতো, এখন সেই জন্যে রাহাতের বিয়ের পর সে এমন কিছু শুরু করেছে, যদি রাহাতের কথা সত্য হয়।। আর নতুবা মূল ঘটনা কি আমি জানি না, তবে শান্তা আমাকে রাহাতের কথা ইনিয়ে বিনিয়ে কয়েকবার বলেছে, এই যেমন ধর, আচ্ছা আপু তুমি ভাইয়ার কোন কোন বন্ধুকে চিনো, আমি হয়তো রাহাতের নাম বলতে ভুলে গেছিলাম।। শান্তা খুব এক্সাইটেড হয়ে বলে, রাহাত ভাইয়াকে চিনো না, হুম চিনি তো।। পরে রাহাতকে নিয়েই মনে কর বেশ প্যাঁচাল পারলো।। তাই তুই ঘটনা বলার সাথে সাথে, শুরুতেই আমি অনুমান করে এটা বলে দিলাম।।

আমি চিন্তিত কণ্ঠে বললাম- এ থেকে রক্ষার উপায় কি, তুই তো ভয় ঢুকিয়ে দিলি রে, আমি সিরিয়াস শান্তাকে নিয়ে চিন্তিত।।

সিজা আবার আমার হাত চেপে ধরে বললো- টিএজ বা অল্প বয়সী মেয়েদের শুরুতে শুরুতে হরমোনের বিভিন্ন চেঞ্জের কারণে এমন সমস্যা হয়, দেখবি এলাকার যত বখাটে মাস্তান এইগুলার সাথে টিনএজ মেয়েরা প্রেম করে।। কেন করে জানিস, ঐ যে এইগুলা প্রস্তাব দিতে পারে তাই, তুই যদি দিতে পারিস তোর সাথেও হবে, কারণ তাদের হরমোন তাতে সায় দেয়।। এইবার শোন, শান্তাকে ঢাকা এনে ক’দিন আমার কাছে রাখ, আমার বাসায় তো খালি আব্বা আম্মা আর আমরা তিন বোন, শান্তা নিরাপদেই থাকবে।। তুই দুইজনকেই আন কিছুদিন ঘুরে যাক্‌ আমাদের এখান থেকে।।

সিজার প্রস্তাব আমার মনে ধরেছে, আমার আসলে আরও অনেক কিছু জানার আছে।। সিজাকে আমার এই জন্যেই ভালোলাগে, মেয়েটা কতকিছুর সমাধান দিলো, শুধু পারলো না আমার আর নিতুর ব্যাপারটা নিয়ে কিছু করতে।। ভাবলাম, দেখি এই ব্যাপার নিয়ে আলাপ করি।।

আচ্ছা দোস্ত, শুন না।। নিতু কি আমার লাইফে ব্যাক করবে??

সিজা কেমন যেনো একটা চমকে উঠে বললো- নিতুকে তুই এখনো ভুলিস নি, বলিস কি, তুই দেখি কঠিন প্রেমিক রে।।

-না দোস্ত, ভুলতে পারছি না।। বল না নিতু কি ব্যাক করবে??

সিজা একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বললো- আমাকে কি তোর জ্যোতিষী মনে হয় রে, আমি কিভাবে জানবো।। যাই হোক, যা এখন ভাগ তুই, আমার উপরে যেতে হবে, ৯ টার আগে বেরুনো যাবে না।। আর শুন, ওদের নিয়ে আয় ভালোই হবে, আম্মাও ওদের দেখতে চায় কতদিন।।

……………

টাংগাইল যাচ্ছি, কল্যানপুর থেকে টিকেট কেটে কাউন্টারে বসে আছি।। শান্তা শিলাকে এরমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি আমি যে টাংগাইল যাচ্ছি।। ওখানে বসে থেকে রাহাতকে একটা কল করলাম, ও তো টাংগাইলই থাকে, ব্র্যাক ব্যাংকে জব করে, ভাবলাম ওর সাথে দেখা করে শান্তার ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যাবে।। রাহাত হয়তো আমার কথা শুনলে বুঝতে পারবে কেনো শান্তা এমন করছে।। আসলে সিজার কথা শোনার পর থেকে, আমার আর রাহাতকে সন্দেহ হচ্ছে না, বরং আমার মনে হচ্ছে আমার নিজের বোনেরই কোন মানসিক সমস্যাইয় ভুগছে।। হতে পারে, যে মেয়েকে এত বড় হবার পরেও মা নিজ হাতে খাইয়ে দিতো, এত আদর যত্ন করতো, সেই মেয়েটা আচমকা এভাবে মা হারা হয়ে গেলো।। আবার এদিকে শান্তা শিলা যখন টাংগাইল থাকার জন্যে খালাম্মার বাসায় যায়, তখন এই রাহাত, সুজন এদের বলেছিলাম ওদের দেখে রাখতে বা কোন সমস্যা হলে যেনো রাহাতকে ফোন দেয়, যেহেতু আমি ঢাকায় থাকি।। নিশ্চয় এরমধ্যেই কিছু একটা হয়ে গেছে, তাই আপাতত রাহাতের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই।। ক্ষোভ ঐ বিধাতার প্রতি কেন এত অল্প বয়সে আমার মাকে নিয়ে নিলো, কেনো আমরা সবাই ঢাকা থাকা বাদ দিয়ে এভাবে পরিবার বিচ্ছিন্ন হলাম।।

রাহাতকে দুইবার কল দিলাম, রিসিভ করলো না।।

বাসে উঠলাম, আমার সিট জি ফোর।। উঠে সিট দেখতে দেখতে পিছনের দিকে যাচ্ছি, একটা জিনিস দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম।। দেখি রাহাতের বউ বিন্তি বাসের মধ্যে বসা, পাশে একটা ছেলে আছে আমাদের বয়সী, মনে হচ্ছে বিন্তির চেনা লোক।। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, বিন্তিকে দেখে আমি যতটা না চমকে গেলাম, বিন্তি আমাকে দেখে মনে হলো দ্বিগুণ বেশি চমকে গেলো।। আমাকে দেখেও কেমন যেনো না দেখার ভান করলো, মুখ লুকানোর মত করে।। আমি ওদের সিট পেরিয়ে পিছনে চলে গেলাম, ওদের সিট ডি সিরিয়ালে, আমার তো জি।। এটা কি হলো, বিন্তি ঢাকাতে কেনো, আর পাশের ঐ ছেলেটা কে, আশা করি নেগেটিভ কিছু হবে না।। ভাবছিলাম, এসি বাসে যাচ্ছি সিটে বসেই একটা ঘুম দিবো, কিন্তু সামনে যা দেখলাম, ঘুম আর আমার হইছে!!

নিজের সিটে বসে এই ব্যাপারগুলোই ভাবতে লাগলাম।। রাহাত ব্যাটাকে তো দুইবার কল দিলাম, কল ধরলো না কেন, আমার আসলে অস্বস্তি লাগছে, বিন্তির পাশে বসা ছেলেটা বিন্তির কি হয় না জানতে পেরে।। আপাতত মন অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করলাম, মোবাইলে ডাটা কানেক্ট করে হোমপেইজ ঘাঁটতে থাকতাম।। একটা মজার লেখা চোখে পড়লো, এত কিছুর মধ্যেই হো হো করে হেসে উঠলাম, আমার পাশে বসা বেচারা এমন ঘুরে ঘুরে আমার দিকে তাকাচ্ছিলো, মনে হচ্ছিলো লোকটা কোন চিড়িয়াখানার কোন আজব জন্তু দেখছে।।

ব্যাপারটা এমন ছিলো, একটা ছেলে বার বার প্রেমিকাকে বলছে, আমাকে মাফ করে দাও।। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।।

প্রেমিকা বলছে- তুমি আমার মন ভেঙে দিয়েছো, তোমাকে মাফ করা যাবে না।।

ছেলেটা বললো- বলো কিভাবে আমি জোড়া লাগিয়ে দিবো??

প্রেমিকা জবাব দিলো- তুমি জোড়া লাগাতে চাও, আচ্ছা তুমি একটা গ্লাস হাতে নাও, এরপর মেঝেতে ফেলে দাও।।

ছেলেটা- আচ্ছা, এই যে দিলাম।।

প্রেমিকা এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বললো- এবার এগুলো জোড়া লাগিয়ে আমাকে দেখাও।।

ছেলেটা জবাব দিলো- কি জোড়া লাগাবো, স্টিলের গ্লাস ফালাইছি ভাঙে নাই তো, তুমি কি কাঁচের গ্লাসের কথা বলছিলা??

এই জাতীয় লেখা পড়লে আমার খুব হাসি পায়, মনে হয় মানুষকে শুনিয়ে দেই।। আবার মাথায় মধ্যে কতগুলো চিন্তা জেঁকে বসলো, বাস ছেড়ে দিয়েছে বেশ আগেই।। আমি হঠাৎ সিট থেকে উঠে সামনে যেতে থাকলাম।। আমার উদ্দেশ্য বাসের একদম সামনে গিয়ে, বাসের স্টাফের কাছে পানির বোতল চাইবো।। আসলে এটা করার একমাত্র কারণ, সামনে যাবার সময় আর ফিরে আসার সময় বিন্তি ওই ছেলের সাথে কি অবস্থায় আছে সেটা দেখার ইচ্ছা।।

যেই ভাবা সেই কাজ, সামনে এগিয়ে গেলাম, যাবার সময় ডান পাশে তাকালাম, ওমা দেখি এদের দুজনেরই চোখ বন্ধ, মনে হচ্ছে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।। তবে কেউ কারও কাঁধে মাথা দিয়ে না, সটান হয়েই শুয়ে আছে দু’জন।। আমি সামনে গিয়ে মিনি পানির একটা বোতল নিয়ে আসলাম, যেটা এমনিতেই একটু পরে সবাইকে বিলাতো।।

বিন্তি আর ঐ ছেলেটা করটিয়া নেমে গেলো।। আমি জানি যে রাহাতের বাসা শহরের থানাপাড়াতে, কিন্তু বিন্তি করটিয়া কেন নামলো, যা কিনা টাংগাইল মূল শহর থেকে প্রায় আরও ৫-৬ কিলোমিটার আগে।। আমার গন্তব্য টাংগাইল সাবালিয়া, রাত প্রায় ৮ টা বেজে গেছে।। এরমধ্যে শান্তা শিলার সাথে দু দফা কথা হয়েছে, খালাম্মা জানে আমি আসতেছি কিন্তু রাহাত আর কল ব্যাক করলো না কেন বুঝলাম না।।

………………

সারাদিন অফিস করে, বিকেলে রওনা দিয়েছিলাম টাংগাইল।। শরীর খুব ক্লান্ত লাগছে, খালাম্মাদের বাসায় খালাম্মা খালু ছাড়া আর কেউ থাকেন না, খালাম্মার তিন মেয়ে তিনজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে, আর খালাতো ভাই মুহিন সখিপুর চাকরী করে, বউ বাচ্চা নিয়ে ওখানেই থাকেন, মাসে এক আধবার এখানে আসে এই তো।।

শান্তা শিলার সাথে স্বাভাবিক গল্প-গুজব করলাম।। শান্তা বার বার জিজ্ঞেস করছে, আমার কাকে আমার পছন্দ হয়েছে, তার ছবি কই, কি করে এসব বলে বলে অস্থির।। আমি বরং বলেছি, হবে হবে সব কথা কাল দিনের বেলায় হবে।। আসলে আজ এসব কথা বলতে মন চাচ্ছিলো না।। রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত আলাপ-সালাপ করে, গল্প গুজব করে খালাম্মার ধমক খেয়ে যার যার রুমে ঘুমুতে গেলাম।। খালাম্মাদের বাসায় তিনটা বড় বড় রুম, ড্রইং রুমে শান্তা শিলা থাকে, ওই রুমের দরজা দুইটা, একটা বাইরের রাস্তা থেকে সরাসরি রুমে ঢুকার, আরেকটা বাসার মূল অংশে ঢুকার।। আর বাসার সামনে ছোট্টমতন উঠান আছে, সেখান দিয়ে মূলত বাসার মেইন দরজা।। আমি শুতে গেলাম মুহিন ভাইয়া যে রুমে থাকে ঐ রুমে।। আজ নিয়ত করেছি নিতুকে একটা কল দিবো, আমি জানি নিতুর নাম্বার থেকে আমার সব নাম্বার ব্লাক লিস্টে দেয়া কিন্তু আমি কল দিলে নিতু বুঝে যে আমি কল দিয়েছিলাম, এটাই বা কম কিসে।। এদিকে ভাবছিলাম রাহাতের কথা, বিন্তির কথা, কাহিনী তো জানাই হলো না কিছু।।

না নিতুকে আর কল দেয়া হয় নি, শরীর এতই ক্লান্ত কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানি না।। মধ্যরাতে ঘুম ভাঙলো, খুব পানির পিপাসা পেয়েছে, আমি রুম থেকে বের হয়ে মাঝখানের ডাইনিং রুমে গেলাম, ফ্রিজে পানি থাকলে ফ্রিজের পানি খাবো।। এমন সময় শান্তা শিলার রুম থেকে কারও কথা বলার আওয়াজ পাচ্ছি।। শান্তা কি ফোনে কারও সাথে আলাপে ব্যস্ত, এত রাতে ফোনে আলাপ!! আমি আস্তে আস্তে হেঁটে দরজার কাছে গেলাম, খুব মন দিয়ে দরজায় কান পাতলাম।।

শান্তা ফিসফিস করে বলছে- রাহাত তুমি এতক্ষণে এলে।। তুমি জানো কতক্ষণ ধরে ওয়েট করছি, শিলা ঘুমে তুমি বেশি শব্দ কইরো না তো।।

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, রাহাত কি তবে এই রুমে এখন!! দরজা কি ধাক্কা দিবো, নাকি শুনে যাবো ভিতরে কি হয়!!

……………

চলবে-