১৯৮০ সালে জন্মেও মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর!

image

গত ১ অক্টোবর ২০১৯,’ ভোরের কাগজ ‘ পত্রিকায় এক বিস্ময়কর খবর ছাপা হয়। শিরোনাম ছিল, ১৯৮০ সালে জন্মেও কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ‘মিজানুর ‘! শুধু এই ব্যক্তিই নয়, তালিকায় এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে বা দুচার বছর আগে জন্মেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৭ম বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেজর।(অব,)রফিকুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। তাদের প্রশ্ন, এরা কিভাবে তালিকাভুক্ত হলো? বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও ভুয়াদের বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ১৯৮০ সালে অথ্যাৎ মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পর জন্ম নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে মিজানুর। তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজিগাঁও গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মজিদ, মা দিলরুবা খানম। ১৯৮০ সালের ৩ জুলাই জন্ম হয় মিজানুরের।এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এটি হয়েছে আদালতের নির্দেশে। হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের বিষয়টি বাতিল করে। মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যার বয়স ৩ ছিল তাকেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের এমন নির্দেশে তিনি বিব্রত বলে জানান। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বাদ দেওয়ার প্রশ্ন উঠে কেন, আবার উচ্চ আদালতকে দোষারোপ করা হচ্ছে কেন? বার বার তালিকা করে তা বার বার গেজেটভুক্ত করেছেন কারা? এসব যারা করেছেন, তাদেরকেই সমাধান বের করতে হবে।আসলে এসব করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায় ও টাকার বিনিময়ে।যারা করেছেন,তারা আর সমাধান করতে পারবেন না। সমাধান করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের সব উল্টাপাল্টা কাজের সমাধান প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এটাও তাঁকেই করতে হবে। না করলে কোটার মতো অন্য সু্যোগসুবিধাও বাতিল করে দিতে হবে। অমুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপালন করার কোনো যুক্তি নেই।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যতদিন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখভাল করেছে -ততদিন অমুক্তিযোদ্ধা শব্দের অস্তিত্বই ছিল না। অমুক্তিযোদ্ধা শব্দের উৎপত্তি হয়েছে মন্ত্রণালয়,জামুকা তথা আমলারা আসার পর। মন্ত্রণালয়ের তথাকথিত যাচাইবাছাই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটাই অমুক্তিযোদ্ধা বান্ধব, ভিজিএফের কার্ড বিতরণের তালিকা করার মতো। এতে অমুক্তিযোদ্ধা বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে। ১৯৮৭, ৮৮ সালে এরশাদের আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় প্রণীত তালিকাটি নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়েছিল। কারণ তখন কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি হস্তক্ষেপ ছিল না। তখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল একলাখ দুইহাজার চারশত আটান্ন জন।এর মধ্যেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি ২৫/৩০হাজার।গত ৩২ বছরে ঐ তালিকার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী ঐ তালিকাটির নাম কখনও মুখেও আনেন না। উল্লেখ্য চীন-ভিয়েতনাম -যুগোশ্লাভিয়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামীর মিথ্যা দাবিদারদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দেশেও ঐরকম শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জেনারেল এম এ জি ওসমানী জীবদ্দশায় জানিয়েছেন, মুক্তিবাহিনীতে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজারের মতো এবং ট্রেনিং ক্যাম্পে তখন অবস্থান করছিল প্রায় ২০/২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অপেক্ষায়। এখন মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি ভাতা নিচ্ছেন প্রায় ২ লাখ ব্যক্তি। এটা জাতির সঙ্গে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে নিদারুণ পরিহাস -তামাশা-প্রতারণা, নিন্দার ও কষ্টের এক নির্মম চিত্র। এটা চলতে পারে না।অস্ত্র হাতে যারা যুদ্ধ করেছেন তারাই মিক্তিযোদ্ধা, এখন ঘরে বসে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা হয়। যুদ্ধের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসী যারা তা দেখেছেন তাদের নিয়ে করতে হবে তালিকা। আর মুক্তিযোদ্ধা কারা এটা নির্ধারণ তো একাত্তরেই হয়ে গেছে। ১৬ ডিসেম্বরের পরে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রণালয় খুলে। তখন অমুক্তিযোদ্ধারা শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, কমান্ডার পর্যন্ত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের লোকেরাও মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে।২০০৮ সালে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের লোকেরা, যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবন বাঁচানোর জন্য ভারতে গিয়েছিল, তারা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়েছে। ২০১২ সালে ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির কিছু লোক অসৎপথে শুধু গেজেটভুক্ত নয়, আদালতের রায় পর্যন্ত নিয়েছে। দলীয় লোকজন এত না থাকায় ভিন্ন দলের লোকজনকেও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে তারা। এসব কারণে মুক্তিযোদ্ধা শব্দটিই কলঙ্কিত হয়ে পড়েছে,দখল করে নিয়েছে অমুক্তিযোদ্ধারা। অমুক্তিযোদ্ধাদের দৃশ্যমান অবস্থান ও বিচরণ প্রাকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্মাহত করে চলেছে, যা সচেতন জনগণের চোখে বিষতুল্য ও ব্যাঙ্গোবিদ্রূপের সামিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অমুক্তিযোদ্ধা বান্ধব কমান্ডারগণ এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হয় না। অমুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের কারও কারও সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সহাবস্থানিক কোনো সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাদের দাওয়াত করে এনে একসঙ্গে সম্বর্ধনা নিতে দ্বিধাবোধ করছেন না। যাচাইবাছাইয়ের সময় দেখা গেছে কোনো কোনো তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা তাদের পক্ষে স্বাক্ষী দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। অমুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার তালিকায় নাম উঠিয়েছেন তারাই। গরু-মহিশের গায়ে ঢাশ লাগলে লেজ দিয়ে তাড়ায় । কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে জোঁক লেগে রক্ত চুষে খাচ্ছে, তা ছাড়ানোর প্রয়োজনবোধ করছে না তারা। ভবিষ্যতে অমুক্তিযোদ্ধাদের ভোটে আবারও কমান্ডার হবার আশা আছে হয়তো।এসব অপকাণ্ড দেখে মনে হয়,১৯৯১-এর পর রাজনৈতিক বিবেচনায় যারা কমান্ডের নেতা হয়ে আসছেন, তারা অনেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। অমুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসন্ততিগণ কোটার সুযোগে অনেকেই চাকরি পেয়েছে। কারণ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে তাদের স্বচ্ছলতা বেশি থাকায় ছেলেমেয়েদের পোড়াশোনা করাতে পেরেছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সম্ভবত এই কারণেই আন্দোলন করেছে কোটা বাতিলের। অমুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হচ্ছে। অমুক্তিযোদ্ধারা বীর ও গাজী বলে জাহিরসহ বুকে মুক্তিযোদ্ধার মনোগ্রাম লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সামনেই ভাতার টাকা উঠাচ্ছে। এসব দেখে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হতাশ হয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছেন।

একাত্তরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই তারা জাতীয় বীর ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এই সন্মান তো এমনি এমনি অন্য কেউকে দেওয়ার বিষয় নয়। কিন্তু এমন সব প্রভাবশালী অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে, যাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ও শক্তি মুক্তিযোদ্ধাদের নেই। বরং তারা অনেকটা লোভী হয়ে পড়েছেন। নগদ যা পাওয়া যায় তাই হাত পেতে নিচ্ছেন। কিন্তু একাত্তরে স্বাধীনতা ছাড়া তো অন্য কিছু পাওয়ার জন্য তারা যুদ্ধ করেননি। কোনো সুযোগসুবিধা বা ভাতা নয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্মানটাই তাদের কাম্য হওয়া কথা।

এই সুযোগসুবিধা ও সন্মানী ভাতাই তাদের জন্য অসন্মানের কারণ হয়েছে, কেড়ে নিয়েছে অমুক্তিযোদ্ধারা। অত্নমর্যাদাসম্পন্ন মিক্তিযোদ্ধাগণ এবং সচেতন জনগণের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝেই এর প্রতিবাদ ও বিহিত করার আওয়াজ উঠছে।কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে নয় মাসের অসীম সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং এক নদী রক্তের বিনিময়ে হানাদার ও দখলদার বর্বর পাকিবাহিনীকে পরাজিত করে যারা ছিনিয়ে এনেছেন দেশের মুক্তি আর প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের শৌর্য-বীর্য ও ত্যাগতিতিক্ষার আজ আর কোনো মূল্য নেই। দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার এত বছরেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করেননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে। কিন্তু সাধারণভাবে একাত্তরের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা আজও নানাভাবে বৈষম্য, বঞ্চনা ও উপেক্ষার শিকার। অনেক মুক্তিযোদ্ধা দরিদ্র, অসহায় ও নিরাশ্রয়। সাধারণভাবে তারা চিকিৎসা সুবিধা হতেও বঞ্চিত। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সন্মানী ভাতার ব্যবস্থা করলেও তা এখনও অপ্রতুল। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বারবার পরিবর্তন করে রাজনৈতিক ও মহলবিষেশের স্বার্থে প্রকাশ্য ও গোপনে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মান-মর্যাদা ও সৌর্য -বীর্যকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করা হয়নি, জাতির সামনে প্রকারান্তরে হেয় আর অপমানিত করা হয়েছে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসও বিকৃত হচ্ছে।

‘ মুক্তিযুদ্ধ ‘ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা ‘ শব্দদ্বয় সন্নিবেশকরণের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ : অবিলম্বে সরকারের সব বিদ্যমান তালিকা হতে ভুয়া তথা অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ। বিদ্যমান তালিকা হতে ভুয়া / অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত ও বিতাড়ন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা চূড়ান্তকণের নিমিত্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিশন গঠন ; মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পোষ্যদের জন্য সব শ্রেনির সরকারি চাকরিতে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত কোটা পুনর্বহাল ; জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব, ঐতিহ্য ও মানসন্মান রক্ষায় ‘মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন ‘ প্রণয়ন ; মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র প্রদান এবং রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তকরণ অতিজরুরি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্যমান সন্মানী ভাতা সময় ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধিকরণ ; মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসুবিধা প্রদান ও নিশ্চিতকরণ ; মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ ও সহজ শর্তে আবাসন ঋণ প্রদান ; বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আগত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বল্পকালীন অবস্থানের জন্য ‘মুক্তিনিবাস ‘ চালুকরণ ; একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আপামর জনগণের উদ্দীপনামূলক স্লোগান ‘ জয়বাংলাকে ‘ রাষ্ট্রীয় ধ্বণির স্বীকৃতি প্রদান ; সারা দেশে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা একাত্তরের বধ্যভূমি ও গণকবরসমুহ চিহ্নিত ও সংরক্ষণ, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস অবিকৃত রাখা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাগ্রহণ ; একাত্তরের রাজাকার-আলবদর -আলসামস, শান্তিকমিটি, যুদ্ধাপরাধী ও সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

আব্দুল খালেক মন্টু – প্রাবন্ধিক।

আরো পড়ুন: বিনিয়োগ করলেই বৃটিশ পাসপোর্ট