এইযে ভাইয়া!

ফুটপাথের ওপর খুব সুন্দর করে “এইযে আপু” বলে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন “এভাবে হাঁটতে আপনার লজ্জা করেনা?”। কিন্তু আমার উত্তর শোনার দুদন্ড সময় আপনার হলোনা। অসমাপ্ত সংলাপ আমার বড্ড বিরক্ত লাগে, তাই এভাবেই আপনার উত্তর দিতে বসেছি।

ভাইয়া, আপনার ছবি তুলে রাখাটা দরকার ছিলো। তাহলে বোধহয় এই উত্তর আপনার জন্য সহজলভ্য হত। কিন্তু আমার ধারণা শুধু এই লেখা দিয়েও আপনি আমাকে ১০০ বার চিনবেন, কারণ যতখন আমি আপনার পেছনে ছিলাম আপনার চোখ নিচু হয়ে ছিলো। আমার ধারণা সব মানুষের বিবেক থাকে। অর্থাৎ আপনিও জানেন কাজটা ভুল ছিলো। কিন্তু কেন ভুল তা হয়তো আপনার অজানা। এক্ষেত্রে যতটা দোষ আপনার তার চেয়ে বেশি ব্যার্থতা আপনার বাবা মায়ের। আপনার মত মহত সিংহ পুরুষেরা যুগে যুগে তাদের পৌরষত্বের পরিচিয় দিয়ে আসছেন অন্যদের হেয় করে। কারণ আপনি নিজের পৌরষত্ব নিয়ে অনিশ্চিত। একথা বললে ভুল হবেনা যে আপনার এই মনোভাবের একটা বিশাল কারণ শিক্ষার অভাব ও অশিক্ষা।

অশিক্ষা অর্থ যে অপসংস্কৃতির প্রভাব আপনাকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আপনি আরেকজন মানুষকে হেয় করার অধিকার রাখেন। যে পৌরষত্বের অধিকার আপনাকে অন্য সকল মানুষের চেয়ে উঁচু হবার ক্ষমতা দেয় বা যে সিংহ পুরুষ হবার কপট ইচ্ছা ও নিজের পৌরষত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আপনার দৃষ্টিতে অন্য সকল মানুষকে শ্বাপদের পদ দেয়, সেই অশিক্ষার কথা বলছি।

ভাইয়া, যুগে যুগে আপনারাই জিতবেন। আপনাদের মত মহত সিংহ পুরুষেরাই ধর্ষন হলে প্রথমে পোশাক ও পরে চরিত্র খোঁজেন। আপনারা জেতেন কারণ আপনাদের সংখ্যা অনেক ও আপনারা হায়নার মত দলবদ্ধ। আপনারা মানুষকে মানুষ নয় ভোগ্য হিসেবে দেখেন। সম্মান কাকে বলে তা আপনাদের শেখানো হয়নি।

কিন্তু ভাইয়া, আর কতদিন? আস্তে আস্তে যে আমাদের দল ভারি হয়ে যাবে। মানুষ মানুষ হয়ে উঠবে আর তখন আপনার মত সিংহের শেষ ঠাঁই হবে জাতীয় চিরিয়াখানা। সেটাই তো আপনার ভয়, তাই না? আপনি তো কাপুরুষ। যুগে যুগে আপনারা একে অপরের মাঝে ভাগ করে রেখেছেন কারণ আমরা সংঘবদ্ধ হলে আপনাদের দিন শেষ। আবার আপনি যদি অপরকে হেয় না করেন তবে আপনার অনিশ্চয়তা বের হয়ে আসবে। তখন আপনি যাবেন কই?

কিন্তু এইযে ভাইয়া, এতটা অশিক্ষিত বা অমানবিক হতে লজ্জা করেনা?

আরো পড়ুন: সেফুদা এবার রাজউক মডেল কলেজে

আরো পড়ুন: প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি!