ডেভিল হাসবেন্ড | বাইশতম পর্ব

আমি দূর থেকেই সব দেখছি আর উপভোগ করছি। অরু নিজের দুই কান নিজের হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে। মনে হচ্ছে ঝড়ের পূর্ব প্রস্তুতি। নির্ঘাত নতুন কিছু বলবে তাই।

সোহেলী আন্টি মনে হচ্ছে এবার আবির আর আরিয়ানকে কিছু বলবে। এবার আন্টির কান্ড দেখে আমি হা হয়ে গেলাম। আন্টি জিজ্ঞেস করলো,আরিয়ান কে ? বাম পাশের জন বলল, আমি আরিয়ান। এই বলার মাত্রই ডান পাশের জন কে কান মোচড় দিয়ে ধরলো। ডান পাশের জন তার মানে আবির।

সে মৃদু চিৎকারের স্বরে বলছে, ইস লাগছে আন্টি। প্লিজ প্লিজ ছাড়ো আর এমন হবে না আন্টি। আসলে আমিই আরিয়ান। তোমার ছেলে নিজেকে আরিয়ান বলছে। ওর ভাগের পানিশমেন্ট টা আমায় দিচ্ছ।

আন্টি তার মানে আরিয়ানকে ধরেছে। ইয়েস ইয়েস ইয়েস, বুঝো এবার মজা। দেখো কেমন লাগে হু। আবির মুখ টিপে হাসছে। ওর হাসি দেখে আমি কেমন ভাবনায় গা ভাসালাম। ভেসে চলে গেলাম ছোট সময়। আরিয়ানের ভুলের জন্য যদি আমি বকা খেতাম তখন ও এমন হাসতো। হেব্বি পাজি ছিল।

হঠাৎ হার্টবিট মিস হতে নিচ্ছিল। এই অরু পাজি মেয়েটার জন্য। এমন ভাবে ভয় দেখালো। জোড়ে ঝাকি দিয়ে বলছে, আরে না ধরলে তো পড়েই যেতে। উফ কি যে কর না। এই মেয়েকে এখন আমি কি বলবো আপাতত ভেবে পাচ্ছিনা। অরু আমাকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করছে আন্টির দিকে।

আন্টি দেখি আবির আরিয়ান দুইজনেরি কানে ধরে বলছে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল কোথাকার। দুজন একি ড্রেস আপ করেছিস কেন ? বিয়ে কি তোদের দুজনকে দেবো ?

আবির বলছে, আম্মু প্লিজ ছাড়ো। দেখেছো অরুটা আছে এখানে। আর কত লোক আছে। অরুটা পরে সবাইকে ঢোল পিটিয়ে বলবে এখানে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পাওয়া যায়। আসুন আসুন দেখে যান, উত্তম দাম দিয়ে ক্রয় করে নিয়ে যান। তুমিও না আম্মু ওর মতো আমাদের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বললে। আমাদের মতো এত হ্যান্ডসাম মাসুম ছেলে দুটো কে এমন বলতে পারলে। আরিয়ান ও তাল দিচ্ছে, হ্যা হ্যা আন্টি তাইতো তাইতো। আহা মায়েরা কি এমন করে বল। আমাদের মতো কিউট কিউট ছেলে দুটোকে তুমি এভাবে কান মলা দিচ্ছ।

এবার আন্টি বলল, তাই নাকি বাপজানেরা ? আপনারা যখন অরিন(অরু) কে কান মলা দিচ্ছিলেন, ওর খুব ভালো লেগেছিল। তাই আমিও তোমাদের দিচ্ছি। আবির অরুর দিকে তাকালো। আমি একবার অরুর দিকে তাকাচ্ছি আরেকবার আবিরের দিকে। অরু ভ্রু নাচাচ্ছে আর আবির চোখ গরম করছে। অরু এবার চোখ টিপ্পনী কাটলে আবির তো বোম ব্লাস্ট !

আন্টি ততোক্ষণে কান ছেড়ে দিয়েছে। কাজল কে নিয়ে সবাইকে চিপস আর ফ্রেঞ্জ ফ্রাই দিচ্ছে। আবির অরুকে ইশারায় বলছে, আই উইল সি ইউ। অরু ভেঙচি কেটে দিল। বলল, ব্ল্যাক বেঙ্গল ইম্পোর্ট্যান্ট বাদর। তুমি আমাকে কান মলা দিয়েছ তাইনা, দেখবে বাসর রাতে তোমার বউ তোমার কান মলা দেবে। শুধু তুমি ই না,তোমার পাশের ওই দুই নম্বর লেজ কাটা ব্ল্যাক বেঙ্গলটার ও কপালে এমন জুটবে।

আবির সেখানে দাঁড়িয়েই বলছে, জুটলে জুটবে তাতে তোমার কি পেত্নি কোথাকার। বউয়ের হাতের কান মলা কেন, সব ই খাবো। তাও ভালো তোমার মতো পেত্নি যাতে কপালে না জুটে। আমিতো হাসি থামাতেই পারছিনা। এদিকে আরিয়ান নিজের কোমরে দুই হাত রেখে, নিচ ঠোট কামড়ে ধরে একবার আবির আর অরুর ঝগড়া দেখছে আরেকবার আমাকে চোখ গরম দেখাচ্ছে। হু আমার কি।

অরুকে আমি হাত ধরে টেনে ডান্স ফ্লোরের দিকে নিয়ে আসি। কারন ওখানে থাকলে অরু মেয়েটা আর কি না কি বলে ফেলে কে জানে। আরিয়ানকে লেজ কাটা ব্ল্যাক বেঙ্গল বলল ! আল্লাহ মালুম আরিয়ান এর রিভেঞ্জ কিভাবে নেবে। আন্টি আবার নিচে গিয়েছে খাবার আনতে। আমরা চারজন ই শুধু পেলাম না।

অরু তো শুধু হাসফাস করছে আরো ঝগড়া করবে বলে। আমি শুধু হাসি মুখ করে ওর দিকে তাকাল মাত্র। কি বুঝলো কে জানে, দুষ্টুমি মাখা একটা হাসি দিল। হাসি দিয়েই ফুড়ুৎ। কোথা থেকে একটা ছেলে ধরে আনলো নাচার জন্য। উফ ছেলেটাও কি কিউট, একদম অরুর মতো কিউট। দুটোকে মানাবে ভালো। ইস আমার কপালে এখনো একটাও জুটলো না। অরু কাপল ডান্স প্র‍্যাকটিস করছে ওই ছেলেটার সাথে। আমি পাশে দাঁড়িয়েই হাত তালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছিল।

হুট করেই কে যেন এসে বলছে, আপনি কাপল ডান্স করবেন না ?
ঘুরে তাকিয়ে দেখি আমার সেই ক্রাশিত ছেলেটি। হাসি হাসি মুখ করে আমার পাশে এসে সবার সাথে হৈহৈ করছে আর হাত তালি দিচ্ছে।
ছেলেটা আবার জিজ্ঞেস করলো, কি হে কন্যা জবাব দিলেন না যে ?

ইশ আমার হৃদয় কাপিয়ে দিলো ! রসগোল্লার মতো কথা বলে, ইচ্ছা করে গপাগপ খেয়ে ফেলি। আস্তে করেই জবাব দিলাম,

– কাপল ডান্স করবো না ভাবছি।

– একটু জোড়ে বললে ভালো হয়, আসলে বুঝতেই তো পারছেন লাউড মিউজিক।

– বলছি যে জোড়ায় নাচ করবো না। এবার বুঝেছেন ?

– করতে চান না, নাকি পার্টনার পাননি সে জন্য ?

– (অবাক হয়ে তাকিয়ে) আপনাকে বলতে যাবো কেন ?

– না জনাবা আমি বলতে হবে না, তবে আপনি যদি আমায় একটা উপকার করে দেন তো বাধিত হবো।

– পারলে করবো, বলুন।

– আমার সাথে পার্টনারশিপ করবেন ?

– একটা কথা বলি ?

– জ্বি অবশ্যই।

– আপনাকে আমার জুনিয়র লাগে, তাই পার্টনারশিপ…

– এক্সকিউজ মি, আমি আপনার জুনিয়র নই। নেহতা লুক টাই এমন আমার। আর আমি আপনার ব্যাপার এ জেনেই আপনাকে অফার টা দিয়েছি। আর পার্টনারশিপ এ আমি জুনিয়র হলে কি আমার সাথে ডান্স করতেন না ?

– না আসলে ব্যাপার টা এমন না।

– তাহলে কেমন ?

– আচ্ছা বাদ দিন ব্যাপার না। আমি ডান্স করবো। তা আপনার নাম টা কি জানতে পারি ?

– হ্যা অবশ্যই। আমার নাম জুয়েল আহমেদ। চাইলে আপনি আমার ফেসবুক, হোয়াটস আপ, ভাইভার, ইমু একাউন্ট ওর ফোন নম্বর ও…..

– ইটস ওকে ইটস ওকে, এত কিছুর দরকার নেই। দরকার পড়লে আমি চেয়ে নেবো। ফোন ঘরে আছে, আপাতত নাম টা জানলেই চলবে।
আমার নাম…

– সাবিয়া। সাবিয়া আপনার নাম। ঠিক বলেছিতো ?

– হ্যা হ্যা একদম।

– তাহলে নেক্সট টাইম কাপল ডান্সে আমরা একসাথে হচ্ছি ?

– জ্বি অবশ্যই।

– ওকে

আমরা দুজনেই অরুর নাচ টা এনজয় করছি। হুট করেই ঝপঝপিয়ে বৃষ্টি নামা শুরু করলে সবাই মিলে নিচে দৌড়। ছেলেরা কয়েকজন মিলে চিলেকোঠার ঘরে সাউন্ড বক্স টা নিয়ে গেলো। আমি অন্য কোথাও তাইকাইনি। অরুর হাত টা ধরেছি আর দৌড় দিয়েছি।

To be continue…

আরো পড়ুন: অসত্য অতীত | প্রথম পর্ব