অর্থনীতিতে পাকিস্তান ছুঁই ছুঁই, লক্ষ্য ভারত

বিশ্ব তাকিয়ে দেখছে পুচকে বাংলাদেশ কি করছে আর জ্বলে পুড়ে মরছে। কিন্তু এটাতো সত্য যে, মাথা নোয়াবার জন্য জন্মা হয়নি এদেশের। বাংলাদেশ এখন এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে গত দুই যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে উঠল।

এশিয়া-প্যাসিফিকের অর্থনীতিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তাইপে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। তবে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ এখন প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করছে। গত বছর ভিয়েতনামের জিডিপির আকার ছিল ৭১ হাজার ১২১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৭০০ কোটি ডলার বেশি। ১০-১৫ বছর আগে বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল এই দেশটি। এই ধারা আগামী দশ বছরে বাংলাদেশ তিন অথবা চারে অবস্থান করবে। কারন, ভারত বা পাকিস্তানের চেয়ে উন্নয়নসূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে।

এডিবির ‘কি ইনডিকেটরস ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই চিত্র উঠে এসেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুসারে হিসাব করলে বিভিন্ন দেশের আর্থিক সক্ষমতার তুলনামূলক প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। এডিবির প্রতিবেদনে পিপিপি অনুযায়ী এশিয়ায় সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটির মোট জিডিপির আকার ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত, যেখানে জিডিপির আকার ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার। এডিবির ওই প্রতিবেদনে এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে কার কত জিডিপির আকার, তা দেখানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়ন করছে, সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থায় আছে, বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় মাথাপিছু আয় কিছুটা বাড়লেই জিডিপির আকারও অনেক বেড়ে যায়।

গত দেড় যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতির যাত্রাটি প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প। এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল সিঙ্গাপুর। ওই বছর বাংলাদেশে মাত্র ১৫ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন সিঙ্গাপুরে সৃষ্টি হয়েছিল ১৬ হাজার ৭১৮ কোটি ডলারের পণ্য উৎপাদন ও সেবা। এরপর বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। পরের ১০ বছরেই সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৪০৫ কোটি ডলার। ওই বছরই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে সিঙ্গাপুর। তখন সিঙ্গাপুরে পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৩৩২ কোটি ডলার। এরপর বাংলাদেশে আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ বেশি।

একইভাবে হংকংকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই দেশটিও ২০০০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো হংকংকে পেছনে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। গত বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে হংকংয়ের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ওই দুটি দেশের চেয়ে অনেক পেছনে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় যুগে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র্যবিমোচনে অগ্রগতি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। শ্রমশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের অংশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি।

এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে ছোট অর্থনীতির দেশ হলো টুভালু। দেশটি গত বছর মাত্র ৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য ও সেবা সৃষ্টি করতে পেরেছে। মজার বিষয় হলো, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ সারা বছরেও বাংলাদেশের ১০ শতাংশের সমপরিমাণ পণ্য ও সেবা সৃষ্টি করতে পারে না। ২০১৮ সালে পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, কিরিবাতি, সামোয়া, ভানুয়াতুসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওই ১৫টি দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬৮ কোটি ডলার।

আরো পড়ুন: পৃথিবী বাঁচাবে তেলাপোকা !