বাড়ির সৌন্দর্য্যে অ্যাকোয়ারিয়াম

আপনার বসার ঘরের সৌন্দর্য্য দ্বিগুণ করে তুলবে অ্যাকোয়ারিয়াম। সুপ্রভাব পাবেন আপনার স্বাস্থ্যেও। চিকিত্সকদের মতে, ঘরে অ্যাকোয়ারিয়াম থাকলে তা দুশ্চিন্তা কমায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অ্যাকোরিয়াম সেট-আপ করা খুব কঠিন কিছু না। সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই বাড়িতে কম খরচেই সেট আপ করতে পারবেন অ্যাকোয়ারিয়াম। তবে অ্যাকোয়ারিয়ামের দোকানে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন কি করে সেটআপ ও মেনটেন করবেন আপনার প্রথম অ্যাকোয়ারিয়াম?

১) প্রথমে ঠিক করুন আপনার বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য জায়গা কতটা। সেই অনুযায়ী যতটা বড় সম্ভব অ্যাকোয়ারিয়াম কিনুন। মাথায় রাখবেন, বেশি ছোট অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ পালা অপেক্ষাকৃত কঠিন।

২) কোনও শক্তপোক্ত টেবিলে থার্মোকলের উপরে অ্যাকোয়ারিয়াম বসাবেন। সরাসরি রোদ আসে এমন কোথাও অ্যাকোয়ারিয়াম রাখবেন না।

৩) মাছ সুস্থভাবে বাঁচতে গেলে জলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রয়োজন। তাই অ্যাকোয়ারিয়ামের আকার অনুযায়ী ফিল্টার লাগান।

৪) মাছ নির্বাচন করার আগে ইন্টারনেটে সেই মাছের কি রকম যত্ন প্রয়োজন জানার চেষ্টা করুন। পূর্ণবয়স্ক মাছটির নূন্যতম কতটা জল প্রয়োজন তা জানার চেষ্টা করুন। কোন কোন মাছ একসঙ্গে রাখা যাবে তার জন্য Fish Compatibility চার্ট পেয়ে যাবেন গুগলেই। শুরুতেই বেশি কঠিন প্রজাতির মাছ এড়িয়ে চলুন।

৫) আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামের সাইজ অনুযায়ী গুগল-এ দেখে নিন আপনার পছন্দের মাছ কতগুলি রাখা যাবে। মাছের সংখ্যা রাখুন কমের দিকে। ফাঁকা দেখতে লাগলেও নোংরা কম হবে। মাছও সাঁতার কাটার অনেক জায়গা পাবে।

৬) অ্যাকোয়ারিয়াম সাজাতে ব্যবহার করুন ন্যাচারাল রঙের ছোট নুড়ি বা বালি।কৃত্রিম রঙিন পাথর থেকে জলে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে পারে।  প্লাস্টিকের গাছ দিয়ে না সাজানোই ভাল। কম দামি প্লাস্টিকের কারণে ক্ষতি হতে পারে

অ্যাকোয়ারিয়াম সেটআপ করেই অনেক মাছ ছেড়ে দেবেন না

৭) অ্যাকোয়ারিয়াম সেটআপ করেই অনেক মাছ ছেড়ে দেবেন না। অ্যাকোয়ারিয়ামের উপকারি ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে তবেই একটা-দুটো করে মাছ ছাড়ুন। গুগল-এ Fish Tank Cycle বলে সার্চ করলেই এ ব্যাপারে জানতে পারবেন।

৮) ভাল মানের শুকনো খাবার অল্প পরিমাণে দেবেন। মনে রাখবেন, কম খাবারের থেকে বেশি খাবার খেয়েই মাছের মরে যাওয়ার  সম্ভাবনা বেশি।

৯) প্রতি সপ্তাহে একদিন আধ ঘন্টা সময় দিন রক্ষণাবেক্ষণে। মাছ থাকা অবস্থাতেই পাইপ দিয়ে অর্ধেক জল ফেলে দিন। কাঁচ পরিষ্কার করুন নরম স্পঞ্জ দিয়ে। তার পর আবার জল ভরুন।

১০) প্রয়োজন না হলে জলে অযথা কোনও ওষুধ বা কেমিক্যাল দেবেন না। এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়।

অ্যাকোরিয়াম একটি কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র। তাই খালি শুধু মাত্র সাজানোর লক্ষ্যে অ্যকোয়ারিয়াম না করাই ভাল। অ্যাকোয়ারিয়ামের বাসিন্দাদের যত্ন নিতে পারলে তবেই ঘরে আনুন।

আরো পড়ুন: ডাক্তাররা কি মানুষ!

আরো পড়ুন: দুর্গাপূজায় শাকিবের মুখোমুখি অপু বিশ্বাস