ধেয়ে আসছে মারণব্যাধি ‘লুপাস’ উপসর্গ জেনে নিন

ডেস্ক: বাংলাদেশে এই রোগের প্রভাব ও বিস্তার বিষয়ে এখনো পরিস্কার কোন তথ্য নেই। কিন্তু ১৯৯৫ সালেই ভারতে এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়। তার পর থেকে এই অসুখ ছড়িয়ে পড়ে ভারতের নানা প্রান্ত। ধারনা করা হচ্ছে, বাংলাদেশেও এই রোগের বিস্তার প্রবল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, যত সময় এগোচ্ছে ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনে আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি, ততই এই অসুখের ছায়া বাড়ছে ভারতীয়দের জীবনে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রোগটি নাম ‘সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাস’ বা ‘এসএলই’। শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এমনকী কোষও আক্রান্ত হয় এই রোগে। আর এক বার এই রোগ ধরলে, নিস্তার পাওয়া মুশকিল, কারণ চিকিৎসকরা বলছেন এসএলই একটি অটো ইমিউন ডিজিজ। কাজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই একমাত্র পারে একে ঠেকিয়ে রাখতে।

ঝুকিতে কারা?

এই অসুখের প্রধান শিকার কমবয়সি মেয়েরা। ‘ইউএন ন্যশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এর মতে, এ ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না। সারা বিশ্বেই এ রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

সাধারণত ১৫ বছর বয়স থেকে ৮৫ বছর বয়সিরা এই অসুখের মূল শিকার। মূলত মহিলারা এই অসুখে আক্রান্ত হন। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কথায়, মেয়েরা আক্রান্ত হলেও পুরুষদেরও উচিত বিভিন্ন অটো ইমিউন অসুখ থেকে দূরে থাকার।

কী কী লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, শরীরে আপনার অজান্তেই বাসা বাঁধছে ‘এসএলই’?

চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখেই সাবধান হতে হবে প্রথম থেকে। যত দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া যাবে, ততই এই অসুখের সঙ্গে লড়াই করা সহজ হবে। তাই সতর্ক হতে হবে প্রথম থেকেই।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, ‘সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাস’ বা ‘এসএলই’ এর প্রধান লক্ষণ এক বা একাধিক অস্থিসন্ধি ফুলে থাকা। সাধারণত, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অস্থিসন্ধিগুলো ফুলে থাকলে সাবধান হোন

লুপাস আক্রান্ত রোগী

এই অসুখে ঘন ঘন জ্বর হয় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রেই জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি থাকে। তাই অস্থিসন্ধিতে ব্যথার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী জ্বর ও সঙ্গে খিঁচুনি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণ নিন।

এই অসুখে অনেকের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে। কারও ক্ষেত্রে আবার বুকে ব্যথা থাকলে। দীর্ঘশ্বাস নিলে সে ব্যথা বাড়ে। এ ছাড়াও হাতের তালুতে বা গলায়, নাকের ভিতর প্রদাহ বা ঘা হয়।

এই অসুখে অনেকের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে। কারও ক্ষেত্রে আবার বুকে ব্যথা থাকলে। দীর্ঘশ্বাস নিলে সে ব্যথা বাড়ে। এ ছাড়াও হাতের তালুতে বা গলায়, নাকের ভিতর প্রদাহ বা ঘা হয়।

এই অসুখের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রং অনেকটাই সাহায্য করে রোগ চিহ্নিতকরণে। এই অসুখের কারণে প্রস্রাবের রং লালচে হয়ে যায়, কারও কারও ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও দেখা যায়। আঙুলের গোড়ার রঙেও কিছুটা বদল হয় এই রোগে।

লুপাস আক্রান্ত রোগী

চিকিৎসকদের মতে, লুপাস সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে তা ক্রমেই বাড়বে, তৈরি হবে নিত্যনতুন উপসর্গ। কাজেই সাবধানতা অবলম্বন জরুরি।

এই রোগীর জীবনে অনেক বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকের অনেক ভুল ধারণাও রয়েছে। যেমন, অনেকে মনে করেন, লুপাস জন্মগত অসুখ, এই ধারণা ঠিক নয়। লুপাসকে অনেকেই সংক্রমক রোগ বলে ভাবেন, কিন্তু আদতে তা ছোঁয়াচে নয়। লুপাসে আক্রান্ত রোগীর সুস্থ যৌনজীবনও বজায় রাখতে পারে।